যুক্তরাজ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধেও ফাইজারের টিকা কার্যকর বলে জানা গেছে এক সমীক্ষায়। বায়োগাইভ ডটকমে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ল্যাব টেস্টের ফলাফলে দেখা গেছে ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া অধিক সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
তবে একই দিন বেশ কিছু বিজ্ঞানী মত দিয়েছেন যে, ভাইরাসের সাম্প্রতিক কিছু রূপান্তরের ফলে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যেতে পারে।
নিউ ইয়র্কের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে এ-সংক্রান্ত প্রাথমিক গবেষণা কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। এর আলোকে বুধবার নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে করোনার সম্ভাব্য আরও রূপান্তরের বিদ্যমান ভ্যাকসিনকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার একটি উপায় হচ্ছে, অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা কোষগুলোকে শরীরে সংক্রমিত হতে বাধা দেয়। রকফেলারের গবেষকরা ২০ জনের কাছ থেকে রক্তের নমুনা নিয়েছেন যারা মডার্না বা ফাইজার ভ্যাকসিন পেয়েছেন। পরে গবেষণাগারে বিভিন্ন ভাইরাসের রূপান্তরের বিরুদ্ধে তাদের অ্যান্টিবডিগুলো পরীক্ষা করা হয়।
রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মিশেল নুসেনজুইগ বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে কিছু ব্যক্তির অ্যান্টিবডি ভাইরাসের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কাজ করতে পারেনি রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করে এটির কার্যকারিতা এক থেকে তিনগুণ কম ছিল। ছোট আকারে হলেও এখানে অবশ্যই তফাৎ ছিল। ভাইরাসের রূপান্তরের বিরুদ্ধে এসব অ্যান্টিবডি খুব ভালো সাড়া দেয়নি।
এর আগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ফাইজার ও মডার্নার ভ্যাকসিন করোনা থেকে সুরক্ষায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্যকর। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, করোনার নতুন স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতায় তফাৎ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হওয়া অতি সংক্রামক নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস বিশ্বের আরও অন্তত ৬০টি দেশে শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বুধবার সংস্থাটির সাপ্তাহিক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ২০ লাখের বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া করোনাভাইরাসের নতুন বৈশিষ্ট্য শনাক্ত হওয়ার পর থেকে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গণহারে টিকা পাওয়ার আগে ভাইরাসটির সংক্রমণ কীভাবে ঠেকানো হবে তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক উৎকণ্ঠা।