করোনায় দাফন সেবার বিরল দৃষ্টান্ত

করোনার সংক্রমণে নিহত ১৩৭ জনের লাশ দাফন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তার দেখাদেখি করোনায় আক্রান্তদের দাফন ও সেবায় এগিয়ে আসেন বহু ব্যক্তি। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ পুলিশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আল-মারকাজুল ইসলাম, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, তাকওয়া ফাউন্ডেশন, ইকরামুল মুসলেমিন ফাউন্ডেশন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বহু প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে লাশ দাফনে। ফলে বাংলাদেশে করোনায় সরকারি হিসাবে ৭ হাজার ৮৮৩ (১৫ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত) লোক নিহত হলেও লাশ দাফন বা সৎকার নিয়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি।

করোনায় নিহত রোগীদের লাশ দাফন করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন কাউন্সিলর মাসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তিনি নিজেও সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়ে বলা যায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। কীভাবে করোনায় নিহতদের লাশ দাফন শুরু করলেন? এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ শুরুতে আমরা সচেতনতামূলক লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ শুরু করি। সেটা ছিল গত বছর ৯ মার্চের দিকের ঘটনা। নারায়ণগঞ্জের ওষুধের সবচেয়ে বড় পাইকারি মার্কেট আমার ওয়ার্ডে। ১৮ মার্চ মার্কেটে গেলে আমি একটিও স্যানিটাইজার পাইনি। উপায়ন্তর না দেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া একটি ভিডিও দেখে আমি নিজেই ঢাকার বাবুবাজার থেকে কাঁচামাল কিনে স্যানিটাইজার বানানো শুরু করি। ৬০ হাজার স্যানিটাইজার বানিয়ে বিতরণ করি। এর মধ্যেই আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে খবর পাই স্বামীর লাশের পাশে স্ত্রী যাচ্ছে না, স্ত্রীর লাশের পাশে স্বামী যাচ্ছে না। কারও কারও লাশ জঙ্গলে পড়ে আছে। এসব দেখে খুবই মর্মাহত হই। আমি ভাবতে থাকি যদি আমার এলাকায় এরকম পরিস্থিতি হয়। গত ৭ এপ্রিল আমার এলাকার জামতলা থেকে একটি মেয়ে আমাকে ফোন করে বলে আমার বাবার লাশ ঘরে পড়ে আছে। আমরা দুই বোন। আত্মীয়স্বজন কেউ নেই। বাবার লাশ কীভাবে দাফন করব। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম জন্ম যখন হয়েছে মৃত্যুও হবেই। করোনায় যদি আমার মৃত্যু আল্লাহ নির্ধারণ করে রাখেন তাহলে আমিও এর থেকে বাঁচতে পারব না। এ চিন্তা থেকেই করোনায় নিহতদের লাশ দাফন শুরু করি। আমি বিষয়টি ফেইসবুকে দেওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবী আরও কয়েকজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমি করোনায় আক্রান্তদের সেবায় একটি দল গঠন করে ফেলি। আমরা কোনো কোনো দিন ৬-৭টি লাশও দাফন করি। শুরুতে মুখে গামছা বেঁধে লাশ দাফন করতাম। আমি সিটি করপোরেশন ও জেলা সিভিল সার্জনের কাছে করোনায় নিহতদের লাশ দাফনের অনুমতি চাই। কিন্তু তারা অনুমতি না দিলেও বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করে।

খোরশেদ বলেন, ‘করোনায় অবস্থা এমন হয়েছে যে, সনাতন ধর্মের একজন ব্যবসায়ী করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার পর কেউ তার দাফনে এগিয়ে আসেনি। তার লাশ বহু সময় ধরে বাসার সিঁড়িতে পড়ে ছিল। প্রতিবেশী আত্মীয়স্বজন কেউ আসেনি। আমি নিজেই সেই লাশ তুলে শ্মশানে নিয়ে যাই। নিজেকেই মুখাগ্নি করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু লাশ দাফনই নয়, করোনা আক্রান্তদের বাঁচাতে ১০৪ জনকে প্লাজমা দিয়েছি। করোনা রোগীদের চিকিৎসাসহ সব ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ পুলিশ : করোনায় নিহতদের লাশ দাফন করে ইতিমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনায় আক্রান্ত রোগী পরিবহন ও করোনায় নিহতদের লাশ দাফন কাজে নিয়োজিত পুলিশের অসংখ্য ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যে মায়ের লাশ ফেলে সন্তান বা সন্তানের লাশ ফেলে পরিবারের লোকজন চলে গেছে কেউ আসেনি সেরকম অসংখ্য লাশ দাফন করেছে পুলিশ।

বাংলাদেশ পুলিশ কত লাশ দাফন করেছে তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, তারা করোনার সময় বিপুলসংখ্যক লাশ দাফন করেছে। যার অধিকাংশই ছিল করোনা সংক্রমণে নিহত ও করোনায় উপসর্গ নিয়ে মৃত।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বলুগ্রামে মারা যাওয়া আফরোজা বেগম (৪০) নামে এক নারীর লাশ দাফন করে আলোচনায় আসেন থানার ওসি আজিজুর রহমান। তিনি জানান, গত জুন মাসে ওই নারী করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার পর বাড়িতেই পড়ে থাকে। আত্মীয়স্বজন কেউ তার কাছে যায়নি। দাফনে বাধা দেয় এলাকার লোকজন। পরে থানার এএসআই আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। তারা এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে কবর খনন করে। স্থানীয় মসজিদের এক ইমামকে ডেকে জানাজা পড়িয়ে স্থানীয় কবরস্থানে ওই নারীর লাশ দাফন করে থানা পুলিশ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন : এদিকে করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে নিহতদের লাশ দাফনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপী আলেম-ওলামাদের সমন্বয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সারা দেশে এ কাজ সম্পন্ন করে। তারা গত বছর ১০ জুলাই পর্যন্ত কভিড-১৯ আক্রান্ত, উপসর্গে ও অন্যান্য রোগে মারা যাওয়া ১ হাজার ২১১টি লাশ দাফন করেছে। বর্তমানে এ সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন গত ২৬ মার্চ কভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত ব্যক্তির কাফন, জানাজা ও দাফনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্র্তৃক জেলা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার জোনভিত্তিক ছয় সদস্যবিশিষ্ট ৬১৪টি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক লাশ দাফনকাফনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন : এদিকে করোনায় মৃতদের শেষ বিদায় জানাতে দেশব্যাপী কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের দাফন সেবা। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় এক হাজার মরদেহ দাফন বা সৎকার করেছেন কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবকরা। গত ৭ এপ্রিল থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দেশের যেকোনো প্রান্তের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন কোয়ান্টামের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরা।

কোয়ান্টামের দাফন কার্যক্রমের সমন্বয়ক ছালেহ আহমেদ বলেন, করোনার এ সময়ে সারা দেশকে ২১টি জোনে ভাগ করে চলছে আমাদের দাফন সেবা। রাজধানী ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, যশোর, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের যেকোনো প্রান্তের জন্যে প্রস্তুত আছেন আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল। কখনো কখনো ঢাকা থেকে মৃতের সবকিছু করণীয় সম্পন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত জেলার স্বেচ্ছাসেবকরা দাফনসহ বাকি কাজ সম্পন্ন করেছে। সারা দেশে সুসংগঠিতভাবে সেবাদানে নিয়োজিত আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল। সারা দেশে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ২ হাজার ৩৩০ জনের লাশ দাফন করেছি আমরা। এর মধ্যে সৎকার করা হয়েছে ৩৭৪ জনের। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা হয়েছে ২০ জনের ও সমাহিত করা হয়েছে ২৪ জনের।

কোয়ান্টাম কর্মকর্তারা জানান, ধর্মীয় বিধান মেনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করে যাচ্ছেন তারা। মুসলিম ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য রয়েছে তাদের আলাদা স্বেচ্ছাসেবক দল। এছাড়া নারীদের দাফনের জন্য রয়েছে আলাদা একটি নারী স্বেচ্ছাসেবক দল। শুরু থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দাফন (বা সৎকার) করছে কোয়ান্টাম।

কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ আইনজীবী, কেউবা শিক্ষার্থী। দিনে বা রাতে যেকোনো সময়ে ডাক পড়লেই তারা হাজির হয়ে যান হাসপাতাল বা মৃতের বাসাবাড়িতে। যথাযথ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মমতা নিয়ে মৃতের আপনজন হয়ে শেষ বিদায় জানান তারা। একটি দাফন বা সৎকার শেষে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের পরিধেয় পোশাকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কবরস্থানে বা শ্মশানে তাৎক্ষণিক পুড়িয়ে ফেলা হয়।

সংশ্লিষ্টরা একটি দাফন বা সৎকার কাজে প্রায় ৩০ রকমের উপকরণ ব্যবহার করে কোয়ান্টাম। সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় অ্যালকোহলসহ কয়েক ধরনের জীবাণুনাশক রাসায়নিক পদার্থ। পাশাপাশি ব্যবহৃত হয় পিপিই, মাস্ক, সেফটি গ্লাস, ফেসশিল্ড, সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস, হেভি গ্লাভস, নেক কভার, মরদেহের কাফনের কাপড়, মরদেহ বহনের জন্য বিশেষ বডিব্যাগ ইত্যাদি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী পরিচালিত এ দাফন কার্যক্রম পুরোটাই চলছে কোয়ান্টাম পরিবারের সদস্যদের দেওয়া অনুদানের ভিত্তিতে।

আল-মারকাজুল ইসলাম : আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে দেশে। এমন প্রেক্ষাপটে মানবতার সেবায় যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম বেসরকারি সংস্থা আল-মারকাজুল ইসলাম। মৃতের গোসল, কাফন এবং জানাজাও পড়াচ্ছে। আল-মারকাজুল ইসলামের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামজা ইসলাম জানান, দেশে সংকট শুরুর পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনায় মৃত ব্যক্তিদের লাশ দাফনে আল-মারকাজুল ইসলামের সহায়তা চায়। তখনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবে সম্মত হন তারা। তিনি জানান, গত শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে ৩ হাজার ২০৫টি লাশ দাফন করা হয়েছে। যার অধিকাংশই ঢাকাতে। হামজা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছর ২৯ মার্চ প্রথম রাজধানীর খিলগাঁও-তালতলায় করোনায় মৃত সন্দেহভাজন এক নারীর লাশ দাফনের মাধ্যমে আল-মারকাজুল ইসলামের আনুষ্ঠানিক কাজটি শুরু করে। বর্তমানে ৩ মহিলাসহ ১৭ জন কর্মী এবং ৪টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে করোনায় মৃত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের লাশ দাফনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি বেশি অবনতি হলে আরও ২২টি অ্যাম্বুলেন্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মানবতার এ সংকটে আল-মারকাজুল ইসলাম শুধু মুসলিম নয়, ধর্মীয় পরিচয় ছাপিয়ে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সেবায়ও এগিয়ে এসেছে। শনিবার পর্যন্ত ৪৫ জন সনাতন ধর্মাবলম্বীর সৎকারের ব্যবস্থা করেছে তারা।

করোনায় সংক্রমিতদের গোসলের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করছেন বলে জানান হামজা ইসলাম। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেরা একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন। প্রথমে ৬০ ভাগ অ্যালকোহলের সঙ্গে ৪০ ভাগ পানি মিশিয়ে তৈরি করা দ্রবণ মৃতদেহের গায়ে স্প্রে করা হচ্ছে। এরপর একটি পাম্পিং মেশিনের সাহায্যে মৃতদেহ প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হচ্ছে এবং তার গোসল বা অজু সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তাকওয়া ফাউন্ডেশন : এছাড়া করোনা সংকটে ত্রাণ কার্যক্রম ও লাশ দাফনে সহায়তা করে যাচ্ছে মাওলানা গাজী ইয়াকুবের নেতৃত্বাধীন ‘তাকওয়া ফাউন্ডেশন’। করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সংগঠনটি লিফলেট বিতরণ, শুকনো ও তৈরি খাবার বিতরণ, জীবাণুনাশক স্প্রে, লাশ দাফনসহ বহুমুখী সেবা পরিচালনা করছে। মাওলানা গাজী ইয়াকুব বলেন, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ৩৮টি টিম গঠিত হয়েছে, তাকওয়া ফাউন্ডেশন তাদের পিপিই সরবারহ করেছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে করোনা পজিটিভ ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীদের লাশ দাফনে সহায়তা করছে।

ইকরামুল মুসলেমীন : আলেমদের সমন্বয়ে আরেকটি সেবামূলক সংগঠন ইকরামুল মুসলেমীন ফাউন্ডেশন লাশ দাফনের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ৭০টি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করেছে, যাদের অধীনে এক হাজার কর্মী প্রস্তুত আছেন। রাজধানী ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটি লাশ দাফনের অনুমতি না পেলেও রাজধানীর বাইরে কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় লাশ দাফনে প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছে। এ পর্যন্ত তারা কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নেত্রকোনায় কয়েকটি লাশ দাফনও করেছে।

ইসলামী আন্দোলন : এছাড়া চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারা দেশে লাশ দাফনের জন্য বিশেষ টিম গঠন করেছে এবং এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৩৫ জনের লাশ দাফন করেছে।

লেখক : সাংবাদিক