দক্ষিণ আফ্রিকা যখন সর্বশেষ পাকিস্তান সফর করে, ২০০৭ সালে, তখনো ফার্স্ট ক্লাসে অভিষেক হলেও জাতীয় দলে তখনো সুযোগ পাননি ফাফ ডু প্লেসি। ২৮ বছর বয়সে ২০১২ সালে যখন টেস্ট খেলা শুরু করেন তিনি, পাকিস্তান তখন ঘরোয়া সিরিজ খেলে দেশের বাইরে। পাকিস্তানের সঙ্গে তার খেলা ৭ টেস্টের দুটি মাত্র পাকিস্তানের হোম সিরিজ ছিল, যা অনুষ্ঠিত হয় আবুধাবি ও দুবাইয়ে। এই প্রথম পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে নামবেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক। করাচি ও রাওয়ালপিন্ডির উইকেট একেবারেই অপরিচিত ডু প্লেসির কাছে। তবুও কাল থেকে শুরু টেস্ট সিরিজে সেরা ব্যাটিংয়েই দিকেই নজর ৬৭ টেস্ট খেলা ডু প্লেসির। তার কারণ পাকিস্তানের ব্যাটিং উইকেট নয়, যা তাকে বাড়তি সুবিধা দেবে। কারণ হলো এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান দেশের বাইরে নিজের ব্যাটিং সাফল্য বাড়াতে চান।
ডু প্লেসির ১০ টেস্ট সেঞ্চুরির একটি পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেটি ২০১৯-এর জানুয়ারিতে কেপটাউনে। সর্বশেষ সেঞ্চুরি (১৯৯) তার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই কদিন আগে। সেটিও দেশের মাটিতে। গত চারটি সেঞ্চুরিই তার দেশের মাটিতে। দেশের বাইরে সেঞ্চুরি পেয়েছেন সেই ২০১৬ সালে, অ্যাডিলেডে।
তবে নেতৃত্ব ছাড়ার পর দায়িত্ব থেকে হালকা হয়ে ভালোভাবেই ব্যাটিংয়ে মনোযোগী হতে পারছেন এ প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। দারুণ আইপিএল কাটানোর পর আন্তর্জাতিকেও রান পেয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ১৯৯ রানের ইনিংস খেলেন। ১ রানের জন্য প্রথম দ্বিশতক না পাওয়ার আক্ষেপ থেকে যাবে তার। তবে বর্তমানের এই ভালো খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান প্লেসিস, ‘আমি নিজে থেকেই চেষ্টা করছি যেন ক্রিকেট উপভোগ করতে পারি। এটা যদি পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আসে তবে সবচেয়ে ভালো হয়। এই মুহূর্তে সেটাই হচ্ছে। আমার ব্যাটিংটা এখন ভালো হচ্ছে। সত্যি এটা স্বস্তিদায়ক এবং পাকিস্তানেও আমি আমার সেরা ব্যাটিংটা করতে চাই। পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে রান করার তাগিদও আমার আছে। আসলে উপমহাদেশে এবং বিদেশের মাটিতে রান পাওয়া এখন আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ উপমহাদেশে প্লেসিসের রেকর্ড সুখকর নয়। ইংল্যান্ডের পর উপমহাদেশেই সেঞ্চুরি নেই তার। ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতে ১৫ টেস্টে মাত্র ২২.৭০ গড় তার।
আসন্ন সিরিজে একদম শূন্য থেকে নামছে প্রোটিয়ারা। পাকিস্তানে খেলা অভিজ্ঞতা কারে নেই। যার আছে তিনি খেলতে পারবেন না। প্রোটিয়াদের বর্তমান কোচ মার্ক বাউচার দক্ষিণ আফ্রিকার সবশেষ পাকিস্তান সফরের দলে ছিলেন সেই ২০০৭ সালে। তার কাছ থেকেই যতটুকু সম্ভব অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বর্তমান ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের উইকেট ভারতের চেয়েও ব্যাটিংবান্ধব ও স্পিন কম ধরে তা জেনেছেন বাউচারের কাছ থেকে। তবে অনুশীলন উইকেটে বল করে কেগিসো রাবাদার মনে হয়েছে বল রিভার্স সুইং করবে। আর ডু প্লেসি বলছেন উপমহাদেশের প্রথাগত উইকেটই হবে, ‘এখানে স্পিনাররা অবশ্যই সুবিধা পাবে। এশিয়ার বাইরের ব্যাটসম্যান হিসেবে আমাকে স্পিন নিয়েই ভাবতে হবে।’