ট্রাম্পকে অভিশংসনের বিপদ

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নন। ক্ষমতা না থাকলেও তাকে অভিশংসিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট শিবির। সাবেক প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করা যায় না এমন কোনো বিধান নেই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে। কিন্তু ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হলে ছেড়ে দেবে না রিপাবলিকানরা। সম্প্রতি সিনেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী এক রিপাবলিকান সিনেটর সতর্ক করে বলেছেন যে, ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হলে তারা সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদেরও ছেড়ে দেবেন না, তাদেরও অভিশংসনের মুখে দাঁড় করানো হবে।

রিপাবলিকান শিবিরের এমন হুমকির পর নড়েচড়ে বসেছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে ডেমোক্র্যাটদের বাস্তব অবস্থা এমন যে, তারা এখন চাইলেও ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটতে পারছেন না। কারণ বিষয়টা ডেমোক্র্যাটদের জন্য এখন ইমেজের ব্যাপার। আগামী মাসের আট তারিখ থেকে ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত ৬ জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিলে সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অভিশংসন শুরু হয়েছে।

পর্যবেক্ষক ও সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার এই অভিশংসন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের কালো অধ্যায়কে উন্মোচিত করতে পারে। এর আগে কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ত্যাগের পর অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হয়নি। কিন্তু ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। সিনেটের জ্যেষ্ঠ সিনেটর জন করনিন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যদি ভালো ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের কেন অভিশংসনের আওতায় আনা হবে না। কোনো কিছু করার আগে ভাবা উচিত। আমাদের দেশের জন্য যা ভালো হয়, তাই করা উচিত।’

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি দুইবার অভিশংসিত হতে যাচ্ছেন। অনেকের মতে, ক্ষমতা ত্যাগের পর অভিশংসিত করা অসাংবিধানিক। কিন্তু আরেক দল বলছেন, ট্রাম্পকে দ্বিতীয় দফায় অভিশংসিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন, তখন ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সিনেটের রিপাবলিকান শিবিরের শীর্ষ নেতা মিচ ম্যাককনেল ক্যাপিটল হিলে সহিংসতার ঘটনায় ট্রাম্পের জড়িত থাকা বিষয়ে জানান, উত্তেজিত জনতা সাবেক প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে উসকানি ও মিথ্যে খুঁজে পেয়েছিল।

ক্যাপিটল হিলের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, ওই ব্যক্তিরা ট্রাম্পের নির্দেশেই ক্যাপিটল হিলে হামলা চালায়। ওয়াশিংটন পোস্টের গত শনিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করতে চাইছেন না। তারা চাইছেন, স্থানীয় আদালতেই যেন বিষয়টির সুরাহা হয়। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার যদি বিষয়টিকে আমলে নিয়ে মামলা দেওয়া শুরু করে তাহলে কমবেশি আটশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হবে। এই আটশ ব্যক্তির মধ্যে সবাই যে অপরাধের সঙ্গে জড়িত এমন নয়। কারণ অধিকাংশ মানুষই কয়েকজন হামলাকারীর পথ অনুসরণ করে ক্যাপিটল হিলে প্রবেশ করেছিল।

গত শুক্রবার পুলিশ টেক্সাসের ৩৪ বছর বয়সী গ্যারেট মিলারকে ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে শুরু দাঙ্গার অভিযোগই নয়, পাশাপাশি টুইটারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এই গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্যও নির্ভর করছে ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়ার ওপর।