কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল নাম্বার কেটে নিজের নাম্বার দিয়ে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত করছেন এক প্রধান শিক্ষক। উপজেলার কাশিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।
সম্প্রতি নাসরিন আক্তার নামে এক অভিভাবক উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দেওয়ায় এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়।
প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগটির অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক, কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রাথমিক মনিটরিং অফিসার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে অভিভাবক নাসরিন আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি কাশিনগর ইউনিয়নের বারইয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার মেয়ে কাশিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ২০১৯ সাল থেকে দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ তার মেয়ে উপবৃত্তি পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমের সঙ্গে আলাপ করলে তালিকা দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। এভাবে কয়েকবার যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। পরে পরিচালনা কমিটির ২-৩ সদস্যকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তারাও বিষয়টি দেখবেন বলে সময় নেন। কমিটির সদস্যরা অদ্যাবধি সঠিক সমাধান দিতে পারেনি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির সদস্যরা বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি খুঁজে পান। যা নাসরিন আক্তারকে সরাসরি বলেন।
নাসরিন আক্কার জানান, কমিটির সদস্যরা উপবৃত্তির তালিকা যাচাই-বাছাই করে দেখেন যে প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম অভিভাবক নাসরিন আক্তারের মোবাইল নাম্বারটি কেটে নিজ মোবাইল নাম্বার লিখে দেন। কমিটির সদস্যরা আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক প্রায় সময় এই নাম্বারে কথা বলতেন, বর্তমানে বন্ধ দেখা যায়। এভাবে আরো অনেকের নাম্বার কেটে নিজের মোবাইল ব্যবহার করে উপবৃত্তির টাকা ভোগ করছেন তিনি।
অভিযোগে আরো জানা যায়, ২০১৯ সনের দ্বিতীয় শ্রেণির তালিকায় রহিমা নামে ছাত্রীর অভিভাবকের মোবাইল নম্বর হিসেবে প্রধান শিক্ষকের পরিবারের একজনের নম্বর লেখা। প্রধান শিক্ষক স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলছে না। প্রধান শিক্ষকের ৮-১০টিরও অধিক সিম রয়েছে বলেও জানা যায়। উপবৃত্তির তালিকায় এ সব সিমের নাম্বার ব্যবহার করে অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম তার পছন্দমতো কাজ করাতে না পারলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে বিষোদগার করেন বলেও অনেকে প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে কাশিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম মঙ্গলবার দুপুরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার চাকরির বয়স শেষ পর্যায়ে। আমার বিরুদ্ধে কেউ কোথাও অভিযোগ করেনি। উপবৃত্তির তালিকায় আমার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি কিভাবে বসানো হয়েছে, তা জানি না। তাছাড়া মোবাইল নাম্বারটিও দুই বছর বন্ধ রয়েছে’।
এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে’।