আন্দোলনে অংশ নেয়ায় দুঃখ প্রকাশের পর ২ ছাত্রের অনশন ভাঙালেন উপাচার্য

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যহারে গত সাত দিন ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে তারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আবার অনশনে বসেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান তাদের অনশন ভাঙিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (কুয়ার) মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীরা এক সমঝোতায় আসেন। এর আগে বিকালে দুই শিক্ষার্থী নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে উপাচার্য বরাবর এক আবেদনপত্র দেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেন, পাঁচ দফা আন্দোলন চলাকালীন দুই শিক্ষার্থীর কারণে শিক্ষকরা কষ্ট পেয়ে থাকলে সে জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং একই সঙ্গে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে সন্ধ্যায় উপাচার্য তাদের অনশন ভাঙাতে আসেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অনশন ভাঙাতে এসেছি এবং খুব দ্রুত তাদের শৃঙ্খলা বোর্ডে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারে আলোচনা করা হবে।

মোবারক হোসেন বলেন, আমরা একটানা আট দিন অনশনে ছিলাম। আশা রাখছি দ্রুত আমাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে।

এসময় উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোসাম্মৎ হোসনে আরা, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হাসান লিমন, কোষাধ্যক্ষ সাধন রঞ্জন ঘোষ এবং সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য গত ১৩ জানুয়ারি দুই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ, তদন্ত ও একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।

তারা হলেন, বাংলা ডিসিপ্লিনের মোহাম্মদ মোবারক হোসেন নোমান (১৮ ব্যাচ) এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের ইমামুল ইসলাম (১৭ ব্যাচ)। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে গত ১৫ জানুয়ারি প্রেস কনফারেন্স করে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু প্রশাসন ওই সময়ের মধ্যে তাদের শাস্তি প্রত্যাহার করেনি। পরে ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর গত সাতদিন ধরে তারা আমরণ অনশন চালিয়ে আসছিলেন।