নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে হত্যা চেষ্টার মামলায় ঢাকা- ৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ও ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (বরখাস্ত) ইরফান সেলিমের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত।
তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে বুধবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ড. মো. বশির উল্লাহ।
ডিএজি বশির উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইরফান সেলিমের জামিন প্রশ্নে দুই সপ্তাহের রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ২৪ অক্টোবর রাতে ধানমন্ডির একটি সড়কে নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিমের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় ইরফান সেলিমকে বহনকারী গাড়ি। কিছু দুর গিয়ে ওই গাড়িটি থামিয়ে এর প্রতিবাদ করেন ওই কর্মকর্তা। এ সময় ইরফান সেলিমের লোকজন কর্মকর্তাকে মারধর করে রক্তাক্ত করেন। পরে স্থানীয় জনতা ও দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। এ ঘটনায় মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করে ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা করেন ওয়াসিম।
২৫ অক্টোবর পুরাণ ঢাকার চকবাজারের ২৬ দেবীদাস লেনে হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে ইরফান সেলিম ও জাহিদকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ইরফান সেলিমের বাসা থেকে বিদেশি পিস্তল, মদ, বিয়ার, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফসহ জাহিদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মদ্য পান ও অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগে ইরফান ও জাহিদকে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সম্প্রতি অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ইরফান সেলিমের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে তার অব্যাহতি চায় পুলিশ।