ভারতীয় সন্ত্রাসী পরিচয়ে গাড়িতে নকল বোমা পুঁতে রেখে চাঁদা দাবির অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একটি টিম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ওই কিশোরের কাছ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।
গত ১১ জানুয়ারি রাত ৪টায় ভারতীয় সন্ত্রাসীর পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গুলশানের একজন ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে বোমা মেরে তার পরিবারের সদস্যদের উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
পর দিন বিকেল ৪টায় পার্কিং করা অবস্থায় চালক ওই ব্যবসায়ীর গাড়ির নিচে বোমা সাদৃশ্য কিছু দেখতে পান। বিষয়টি বাড্ডা থানা পুলিশকে জানালে তারা ডিএমপির সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল টিমকে অবহিত করে। তারা বস্তুটি অপসারণ ও ধ্বংস করে। তবে বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি অকার্যকর বোমা ছিল। এরপর ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে বাড্ডা থানায় মামলা রুজু হয়। ঘটনাটির তদন্ত ও রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর হয় ডিবি টিম। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শেষে মূল হোতাকে শনাক্ত করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার কিশোর মূলত ব্যবসায়ীর গ্রামের বাড়ির কেয়ারটেকারের ছেলে। এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর একটি কাপড়ের দোকানে বিক্রয়কর্মীর কাজ নেয় সে। কিন্তু অল্প সময়ে দ্রুত ধনী হওয়ার আশায় সেখান থেকে পালিয়ে আসে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ধনী হওয়ার জন্য ওই ব্যবসায়ীর পরিবারকে টার্গেট করে। এরপর ঘটনার দুই মাস আগ থেকেই ব্যবসায়ীর পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনা করে।
ওই কিশোর হিন্দি সিনেমা, সিরিয়াল, ইউটিউব দেখে নকল বোমা বানানো এবং সন্ত্রাসী পরিচয়ে হুমকি ধামকি দেওয়ার কৌশল শিখে। হিন্দি ভাষায় দক্ষ সে। এরপর লাল স্কচটেপ, পাইপ, ইলেকট্রিক তার, পেনসিল ব্যাটারি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে বোমা সাদৃশ্য বস্তুটি তৈরি করে নিজের কাছে রাখে। ইতিমধ্যে ওই ব্যবসায়ী প্রাইভেটকার নিয়ে ঢাকা থেকে লৌহজংয়ে এক আত্মীয়ের জানাজায় যান। তখন সুযোগ বুঝে উক্ত গাড়ি নিচে স্কচটেপ দিয়ে নকল বোমাটি আটকে দেয়।
পুলিশ বলছে, রাজধানীতে বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে চাঁদা দাবি করার মতো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু বাংলাদেশে শীর্ষ সন্ত্রাসী বলতে কিছু নেই। কেউ যদি এমন প্রতারণার শিকার হন তাহলে দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করবেন।