বিদায়বেলায় সেই খুবি উপাচার্যই জানালেন ‘সবাইকে নিয়ে’ চলার আহ্বান

এক শিক্ষককে বরখান্ত ও দুই শিক্ষককে অপসারণের ঘটনায় সমালোচিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করে কর্মস্থল ছেড়েছেন। এ সময় উপাচার্যকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। বিদায়বেলায় চার শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা তাকে বিদায় জানান।

বিদায়ের সময় তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।  

বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে উপাচার্য বাসভবন থেকে বের হয়ে মেইন গেট পর্যন্ত হেঁটে যান। রাস্তার দু’পাশে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হচ্ছে শুক্রবার। তবে দিনটি ছুটির হওয়ায় বৃহস্পতিবারই কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, বিভাগীয় প্রধান উপাচার্যের গাড়ির সঙ্গে বিশাল গাড়িবহরে অংশ নেন।

গণমাধ্যমকে উপাচার্য বলেন, ‘এ দিনটি আমার জীবনের স্মরণীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শত শত শিক্ষার্থী আমাকে বিদায় জানাতে এসেছেন এটা অভূতপূর্ব। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন এ ধারা অব্যাহত থাকে এবং দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে চলতে পারলে এ বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভাবনার পথে, সাফল্যের পথে বহুদূর এগিয়ে যাবে’।

এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানানোয় তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন তিন শিক্ষককে শাস্তি দেয়।

শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ২১২তম সভায় বাংলা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যপাক মো. আবুল ফজলকে বরখাস্তকৃত এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী ও বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শাকিলা আলমকে অপসারণ করা হয়।

গত বছরের ১ ও ২ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করেন। সে সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন ওই তিন শিক্ষক। তাদের গত বছরের ১৩ অক্টোবর কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান ও কর্মসূচিও পালন করেন।

একই ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় ফায়েক উজ্জামানের প্রশাসন। বিদায়ের ঠিক আগের মুহূর্তে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করে আসা দুই ছাত্রের অনশন ভাঙান উপাচার্য।

মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান ২০১০ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। ২০১২ সালে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি প্রথম মেয়াদে উপাচার্য হন। পরে ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।