রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালতকে তিনি বলেছেন, তাকে ঢাকা থেকে ধরে সাতক্ষীরায় এনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হলে জ্যেষ্ঠ বিচারক শেখ মফিজুর রহমানের কাছে কথা বলার অনুমতি চান সাহেদ।
অনুমতি পাওয়ার পর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন। আদালতকে অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা থেকে ধরে এনে সাতক্ষীরায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক অমল কুমার রায় সাহেদের এই বক্তব্যের কথা গণমাধ্যমকে জানান।
তিনি জানান, দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাহেদের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে ২৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। সাহেদকে আবার সাতক্ষীরা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও চিকিৎসায় প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার হন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম।
বুধবার তাকে জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের আদালতে হাজির করলে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিকী সময় প্রার্থনা করায় বৃহস্পতিবার ফের তাকে আদালতে হাজির করে অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
সাতক্ষীরা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা জজ আদালতে তাকে হাজির করা হলে আদালত দুটি মামলায় তাকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করে। এ সময় সাহেদ টক’শোর ভঙ্গিতে নানা ঘটনার অবতারণা করলে আদালতের সরকারি কৌঁসুলিদের আপত্তির মুখে বিরত হন তিনি।
এদিকে অভিযোগ গঠনে আপত্তি তুললেও আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিকীর কথা আদালতে খারিজ হয়ে যায় এবং আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুর এলাকা দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে কোমরপুর বেইলি ব্রিজের নিচ থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬ এর সদস্যরা তাকে আটক করে।
এ সময় তার কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, ২৩৩০ ভারতীয় রুপি, ৩টি ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় র্যাবের ডিএডি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দেবহাটা থানায় সাহেদ করিম ও জনৈক বাচ্চু মাঝিকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে বাচ্চু মাঝির নাম বাদ দিয়ে সাহেদকে এককভাবে আসামি করা হয়।