ভারতকে টপকে ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে বাসমতি চালের নিবন্ধন নিতে সুযোগ পেল পাকিস্তান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাসমতি চালকে নিজেদের পণ্য বলে দাবি করে আসছে। এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) আইনি লড়াই চলছে দেশ দুইটি। নিবন্ধনের সুযোগ পেয়ে সেখানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
জিআই হচ্ছে কোনো সামগ্রীর ব্যবহার করা বিশেষ নাম বা চিহ্ন। এই নাম বা চিহ্ন নির্দিষ্ট সামগ্রীর ভৌগলিক অবস্থান বা উৎস (যেমন, একটি দেশ বা অঞ্চল বা শহর) অনুসারে নিৰ্ধারণ করা হয়। ভৌগলিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সামগ্রী নির্দিষ্ট গুণগত মানদণ্ড বা নির্দিষ্ট প্রস্তুত প্রণালি অথবা বিশেষত্ব নিশ্চিত করে।
পাকিস্তানের বাণিজ্য পরামর্শক আবদুল রাজ্জাক দাউদ টুইটারে বলেন, ‘বাসমতি চালকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছে পাকিস্তান। জিআই অ্যাক্ট–২০২০ এর অধীনে বাসমতি চালকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করেছে।’
এর আগে বাসমতি চালকে পাকিস্তানি পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি ঠেকাতে গত সেপ্টেম্বরে ইইউর কাছে আবেদন করে ভারত। সেখানে ভারত দাবি করে, বাসমতি হচ্ছে বিশেষ লম্বা সুগন্ধি চাল, যা উপমহাদেশের নির্দিষ্ট ভৌগলিক অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। ওই অঞ্চলটি উত্তর ভারতের একটি অংশ হিসেবে আবেদনে দাবি করা হয়।
ডিসেম্বরে ভারতের এই আবেদনকে চ্যালেঞ্জ করে পাকিস্তান। তারা একে ভারত ও পাকিস্তানের যৌথ পণ্য হিসেবে যুক্তি তুলে ধরে। এর মধ্যে দিয়ে বাসমতি জিআই ট্যাগ পাওয়ায় ইইউতে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থান শক্ত হবে।
প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে ৫ থেকে ৭ লাখ টন বাসমতি চাল রপ্তানি করে পাকিস্তান, এর মধ্যে ২ থেকে আড়াই লাখ টন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে যায়।