কনকনে শীতল বাতাস আর কুয়াশা মোড়ানো ভোর। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমসেরনগর শুক্রবার ফুটবল মাঠে জড়ো হয়েছেন দেশ-বিদেশের একঝাঁক দৌড়পাগল নারী-পুরুষ। কেউ বয়সে তরুণ-তরুণী, কেউবা বয়সের তারুণ্য পেরিয়ে গেছেন। তবে উচ্ছ্বাসে সকলেই সমান।
তবে ভোরের আগেই এ রকম উৎসাহী মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে শমসেরনগর চা-বাগান ফুটবল মাঠে। শুক্রবার এই মাঠে শমসেরনগর আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথনের আয়োজন করে শমসেরনগর রানার্স কমিউনিটি।
আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন পর্যায়ের দূরত্বে এই ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ১০ কিলোমিটার, ২১ কিলোমিটার ও ৫০ কিলোমিটার। সকাল সোয়া ৬টায় ৫০ কিলোমিটারে অংশগ্রহণকারী দলটি মাঠ থেকে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়।
পৌনে ৭টায় রওনা দেয় ২১ কিলোমিটারের দলটি এবং সোয়া ৭টায় রওনা দেয় ১০ কিলোমিটারের দলটি। ৫০ কিলোমিটারে অংশ নিয়েছেন ১৭৩ জন। ২১ কিলোমিটারে ২৬৫ জন এবং ১০ কিলোমিটারে ১৮৫ জন অংশ নিয়েছেন। মাঠ থেকে রওনা দিয়েই চা-বাগানের উঁচুনিচু পাহাড়ি পথে ছড়িয়ে পড়েন রানাররা।
আয়োজকদের নির্দেশিত পথে যার যার দূরত্ব অনুযায়ী তারা ছুটে চলেছেন। পাহাড়ি পথে ধীর, শান্ত গতির দৌড় আশপাশের চা-বাগানের মানুষসহ পথচারীরা আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেছেন। বিভিন্ন স্থানে পথের পাশের মানুষ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের হাততালি দিয়ে শুভেচ্ছা, স্বাগত জানিয়েছেন।
শমসেরনগর, কানিহাটি ও বাঘিছড়া চা-বাগানের পথে পথে তখন নানা রঙের টি-শার্ট পরা নারী-পুরুষ ও শিশুর দৌড় সবুজ চা-গাছের ফাঁকে ফাঁকে বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য ফুটিয়েছে। কেউ গন্তব্য ছুঁয়ে মাঠের দিকে ফিরছেন, কেউ গন্তব্যের দিকে ছুটছেন।
সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকেই গন্তব্য ছুঁয়ে মাঠের দিকে ফিরতে থাকেন রানাররা। ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আয়োজকরা অংশগ্রহণকারী রানারদের হাতে তুলে দেন ‘ফিনিসার মেডেল’।
অংশগ্রহণকারী চট্টগ্রামের নৃপেন চৌধুরীর বয়স ৬৯। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খুবই সুন্দর ট্রেইল রুট ছিল। এই প্রথম ট্রেইল ম্যারাথন উপভোগ করছি। ২০১৬ থেকে তিনি ম্যারাথনে অংশ নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত দেশে-বিদেশে ৫০টি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন তিনি।’
বসুন্ধরা রানার্স গ্রুপের মিঠুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রেইল খুব ভালো ছিল। আমি ২১ কিলোমিটার দৌড়েছি। এ রকম ট্রেইলে আগে দৌড়াইনি। তবে খুব উপভোগ করেছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চেক রিপাবলিকান নাগরিক অংশগ্রহণকারী এক নারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিস্ময়কর। অনেক উপভোগ করেছি। তবে মন খারাপ, আমার বন্ধু অংশ নিতে পারেনি।’
সিলেট থেকে অংশ নেওয়া আমিনুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রেইলের আরও চার-পাঁচটা পয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবক থাকলে ভালো হতো। অংশগ্রহণকারীরা সবাই নতুন। অ্যারো চিহ্নগুলো নিচু থাকায় অনেকের বুঝতে অসুবিধা হয়েছে। এ ছাড়া সবকিছু এক্সাইটিং। প্রাকৃতিক ভিউ অসাধারণ।’
শমসেরনগর আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথনের সদস্যসচিব নবিল শমশেরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর আগেও নিজ উদ্যোগে আমরা ম্যারাথন করেছি। এবার বড় পরিসরে ম্যারাথন হয়েছে। অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতে হয়তো আরও ব্যাপকভাবে করা সম্ভব হবে।’
শমসেরনগর আল্ট্রা ট্রেইল ম্যারাথনে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, আমেরিকা, নেপাল ও চেক রিপাবলিকান প্রজাতন্ত্র থেকে ৩০ জন অংশ নিয়েছেন। সকাল ১২টার মধ্যে ১০ ও ২১ কিলোমিটারে অংশ নেওয়া অনেকেই মাঠে ফিরে আসলেও ৫০ কিলোমিটারে অংশ নেওয়া রানাররা গন্তব্য স্পর্শ করতে তখনো চা-বাগানের উঁচু নিচু পথে ছুটে চলছেন।