তৃতীয় ধাপের পৌর নির্বাচন: ৬৩ পৌরসভায় ভোট শনিবার

চলমান স্থানীয় সরকারের পৌরসভা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ৬৩ পৌরসভায় ভোট শনিবার। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে এসব পৌরসভায়। 

প্রথম ধাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং দ্বিতীয় ধাপে ইভিএম ও ব্যালট পেপারে ভোট হলেও; তৃতীয় ধাপের সব পৌরসভায় ব্যালট পেপারে ভোট হবে। এ লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কর্মকর্তারা। আগের রাতে সিল মারা ঠেকাতে ভোট গ্রহণের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা।

ইসি ৬৪ পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করলেও  ত্রিশালে মেয়র পদের এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন। যার ফলে ৬৩ পৌরসভায় ভোট। 

তৃতীয় ধাপে নির্বাচনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, কুমিল্লার লাকসাম এবং বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মেয়র পদে একক প্রার্থী থাকায় তিনজনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া দুজন করে মেয়র প্রার্থী রয়েছেন ৯ পৌরসভায়। এদিকে দ্বিতীয় ধাপে পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর একক প্রার্থী হওয়ায় মেয়র পদে চারজন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

ভোট নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি শঙ্কা-উৎকণ্ঠা রয়েছে প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে। এ ধাপের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় বাধা দেওয়া নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন প্রার্থীরা। অনেক প্রার্থী কেন্দ্র দখলের শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। প্রার্থীদের হত্যার হুমকি, হামলা-পাল্টা হামলা, আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন পৌরসভায়।

যেসব পৌরসভায় ভোট : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ; নওগাঁর সদর ও ধামুইরহাট; সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ; বগুড়ার ধুনট, গাবতলী, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ ও কাহালু; রাজশাহীর কেশরহাট ও মুন্ডুমালা; মৌলভীবাজার সদর; ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুন্ডু ; বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ; কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম ও বরুড়া; চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ; ফেনী সদর; মুন্সীগঞ্জ সদর; শরীয়তপুরের নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও জাজিরা; ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ, ভালুকা ও গৌরীপুর; শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ী; নাটোরের সিংড়া; চুয়াডাঙ্গার দর্শনা; ঝালকাঠির নলছিটি; নেত্রকোনার দুর্গাপুর; যশোরের মনিরামপুর; নোয়াখালীর চৌমুহনী ও হাতিয়া; লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ; কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী; গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া; টাঙ্গাইল সদর, মধুপুর, ভূঞাপুর, সখীপুর ও মির্জাপুর; বরগুনার সদর ও পাথরঘাটা; ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান; কুড়িগ্রামের উলিপুর; দিনাজপুরের হাকিমপুর; চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর; নড়াইলের সদর ও কালিয়া; সাতক্ষীরার কলারোয়া; রাজবাড়ীর পাংশা; পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি; বরিশালের গৌরনদী ও মেহেন্দিগঞ্জ; জামালপুরের সরিষাবাড়ী; নীলফামারীর জলঢাকা; পাবনা সদর এবং খুলনার পাইকগাছা।

তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠই পেশায় ব্যবসায়ী। এ ক্ষেত্রে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে। দলটির ৯০ শতাংশ মেয়র প্রার্থীই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আর আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে তা ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রার্থীদের মাথায় রয়েছে মামলার বোঝা। দলটির ৩৯ মেয়র প্রার্থীর মাথায় ঝুলছে ১৬৫ মামলার খড়গ। সেখানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাত প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে মাত্র ১০ মামলা।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে পৌর নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৬৫.০৬ শতাংশ ও দ্বিতীয় ধাপে ৬১.৯২ শতাংশ। গড়ে দুই ধাপে ৬৪ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও বিদ্রোহী এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে অনেক সময় সংঘাতের ঘটনা দেখা গেছে। এ দুই ধাপের ভোটে দুয়েকটি এলাকায় সহিংসতা-গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় ধাপে পরিস্থিতি ভালো রাখতে তৎপরতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

মেয়র পদে সব মিলিয়ে মোট ১০টি দলের প্রার্থী রয়েছে এই ধাপে। তবে বরাবরের মতোই মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে।  পৌর ভোটের দ্বিতীয় ধাপে অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, জাতীয় গণতান্ত্রিক দল-জাগপা,  ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি, বাংলাদেশ কংগ্রেস।
দ্বিতীয় ধাপে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ৪৫ জন, বিএনপির ৪ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন, জাসদের ১ জন ও ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগের ১৮ জন, বিএনপির দুজন এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হন।

তৃতীয় ধাপে মেয়র পদে তিনজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৯ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ইসির জনসংযোগ শাখা জানায়, প্রত্যাহারের পরে চূড়ান্ত লড়াইয়ে রয়েছেন তিনটি পদে মোট ৩৩৪৪ জন প্রার্থী। এরমধ্যে মেয়র পদে ২২৯ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৫৫ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৩৬০ জন। দেশে পৌরসভা রয়েছে মোট ৩২৯টি। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার পাঁচ ধাপে এসব পৌরসভায় নির্বাচন করছে কমিশন।

প্রথম ধাপের তফসিলের ২৪টি পৌরসভায় গত ২৮ ডিসেম্বর ইভিএমে ভোট হয়েছে; এরপর ১৬ জানুয়ারি ভোট হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের ৬১ পৌরসভায়। তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ জানুয়ারি, চতুর্ধ ধাপের ১৪ ফেব্রুয়ারি ও পঞ্চম ধাপের ভোট হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই পৌরসভার ভোট করতে হয়। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর ২০১৫ সালে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয় পৌরসভায়। সেবার ২০টি দল ভোটে অংশ নেয়।