আক্ষেপের লেগস্পিনে ভরসার নাম রিশাদ

বাংলাদেশে লেগস্পিনার মানেই এক আক্ষেপের গল্প। জুবায়ের হোসেন সেই আক্ষেপ কিছুটা ঘোচাতে চেয়ে মিইয়ে গেছেন। এখন দৃশ্যপটে আরেক তরুণ। নাম তার রিশাদ হোসেন। বয়স সবে ১৮।

নীলফামারী সদর উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের ছেলে রিশাদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন শুক্রবার ৫ উইকেট নিয়েছেন। কেবলমাত্র এই পাঁচটি উইকেটের জন্যই তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা নয়, বছর দুই আগে থেকেই  ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার লেগ স্পিনারকে চোখে চোখে রাখছেন নির্বাচকেরা। শুক্রবার প্রস্তুতি ম্যাচে তারই মূল্য দিলেন।

রিশাদের উঠে আসা: ২০১৭ সালে স্পিনার হান্টে যোগ দেওয়া থেকেই জীবনের বাঁক বদলের শুরু। নীলফামারীতে অনুশীলন করতেন শহরের একটি ক্রিকেট একাডেমিতে। সে বছর বিসিবির সঙ্গে মিলে দেশজুড়ে স্পিনার খোঁজার অভিযান শুরু করে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি। একাডেমির কোচদের পরামর্শে রিশাদ নাম লেখান প্রতিযোগিতায়।

জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত হয়ে বিভাগীয় পর্যায়েও জিতে রিশাদ আসেন জাতীয় পর্যায়ে। সেখানেও নজর কাড়েন বিচারকদের। শেষ পর্যন্ত স্পিনার হান্টের বিজয়ী হতে পারেননি, তবে ছিলেন সেরা দশে। নিখুঁত নিশানা ও ধারাবাহিকতার জন্য পেয়েছিলেন সেরা ‘অ্যাকুরেসি’ স্পিনারের পুরস্কার।

স্পিনার হান্টের বিজয়ীদের নিয়ে দুটি ক্যাম্প করেছিল বিসিবি। সেখানে আলাদা করে নিজেকে চেনান রিশাদ। ২০১৮ সালের মার্চে জায়গা পান বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। এর আগে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে টুকটাক বয়সভিত্তিক দলে খেললেও জাতীয় পর্যায়ে ছিল সেটিই প্রথম। ভারত সফরে খেলেন আফগানদের বিপক্ষে সিরিজে।

স্পিন ক্যাম্প থেকেই নির্বাচকদের চোখ ছিল তার ওপর। স্বীকৃত ক্রিকেটে একদম আনকোরা স্পিনারকেই তারা জায়গা দেন হাই পারফরম্যান্সের স্পিন স্কোয়াডে। সেটি যদি বিস্ময়কর হয়, পরের ধাপ ছিল মহাবিস্ময়। সরাসরি ‘এ’ দল!

রিশাদের শক্তি যেখানে: দেখলেই প্রথমে নজর কাড়ে তার উচ্চতা। বাংলাদেশের বিবেচনায় এটি খানিকটা বিরল। বাড়তি বাউন্স পান। বাংলাদেশের স্পিনাররা এমনিতে সহজাত টার্নার হন না। রিশাদেরও টার্ন খুব বেশি নেই, জুবায়ের হোসেন লিখনের বরং টার্ন বেশি ছিল। তবে রিশাদের পেস খুব ভালো। ওপর থেকে একটু জোরের ওপর বল ছাড়েন, অনেকটা কুম্বলে ঘরানার বোলার।

চট্টগ্রামে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ২৫৭ রানে। বিসিবি একাদশ দিন শেষ করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৪ রান নিয়ে।

বিসিবি একাদশের ম্যাচ শুরুর ১১ জনে ছিলেন না রিশাদ। পানির বোতল হাতে তখন অতিরিক্ত ফিল্ডারের কাজ করছিলেন। তবে এই ম্যাচে নেই সুনির্দিষ্ট একাদশের ব্যাপার। রিশাদ মাঠে নামেন লাঞ্চের একটু আগে। দিন শেষে তিনিই সফলতম বোলার ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে।

দিন শেষে রিশাদের প্রশংসা করেন প্রতিপক্ষ দলের ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটও। সাড়ে চার ঘণ্টা উইকেটে কাটিয়ে ৮৫ করা ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক বলেন, ‘লেগস্পিনার ছেলেটা দারুণ বল করেছে। সে ধারাবাহিক ছিল। বল যে খুব বেশি স্পিন করছিল তেমনও নয়। কিন্তু সে তার লাইন-লেংথ ঠিক রেখে বল করেই গেছে। সে আসলেই ভালো বল করেছে।’