বিশেষ ফ্লাইটে জায়গা হয়নি রুদ্রনীলের

এক মাসের জল্পনার অবসান। একদা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ দলবদল করলেন। দীর্ঘ ৭ বছরের সম্পর্ক কাটিয়ে এবার ‘সাতে পাঁচে নেই’ অভিনেতা প্রবেশ করলেন পদ্ম শিবিরে। জানিয়ে দিলেন, “বাংলার মানুষের জন্য শিগগিরই মাঠে নামব। কাজ করতে হবে মানুষের জন্য।”

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, শুরুতেই খানিকটা হোঁচট খেয়েছেন কলকাতার এ অভিনেতা। নেতাদের সঙ্গে তার জায়গা হয়নি বিশেষ ফ্লাইটে!

রাজ্যের শাসক দলের প্রতি ক্ষোভ উগরে, সহকর্মীদের গরুর মাংস রান্না ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করে ক্রমশই বিজেপির দিকে ঝুঁকছিলেন রুদ্রনীল। সেই অভিলাষেই শনিবার এক নতুন ‘পথের দাবি’তে দিল্লিতে উড়ে যেতে চেয়েছিলেন। রাজীব-বৈশালীদের মতো নেতাদের সঙ্গে রাজধানীতে উড়ে যাওয়ার কথা ছিল তার। দিল্লি পাড়ি দেওয়ার আগে বিমানবন্দরে তাদের সঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখা যায় উচ্ছ্বসিত অভিনেতাকে।

কিন্তু সেই চার্টার্ড ফ্লাইটে জায়গাই হলো না রুদ্রনীল ঘোষের! সে কথা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলের অন্দরে জোর শোরগোল শুরু হয়।

দিল্লিতে রাতে অমিত শাহের বাড়ির বৈঠকেও দেখা গেল না রুদ্রনীল ঘোষকে। সেখানে মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রাও উপস্থিত ছিলেন। শাহের বাড়িতে প্রবীর, বৈশালী সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্য অন্য ফ্লাইটে পরে অমিতের বাড়ি যান রুদ্রনীল। সেই ছবিও এসেছে অনলাইনে।

এ সব খবর প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকার দলের বিরোধী শিবিরে জোর জল্পনা যে, “তাহলে কি যোগদানের আগেই অভিনেতার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ বিজেপির!”

৩১ জানুয়ারি হাওড়ায় অমিত শাহ থেকে পদ্ম পতাকা হাতে নেওয়ার কথা ছিল রুদ্রনীল ঘোষের। কিন্তু দিল্লিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণের কারণে সেই সফর স্থগিত হয়।

২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বে বসানো হয়েছিল রুদ্রনীলকে। এরপর ২০১৫ সালেই রাজ্য সরকারের জনপরিষেবা অধিকার কমিশনার করা হয়। ওই সময়ে নিয়মিত ফিল্মে ফেস্টিভ্যালে দেখা যেত তবে। তবে সেই তাল কেটেছে গত দেড় বছর ধরে! চলতি মাসে অনুষ্ঠিত কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখা যায়নি তাকে।