লাখো মানুষের শ্রদ্ধায় আওয়ামী লীগ নেতা মুনসুর আহমেদের চিরবিদায়

লাখো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন সাতক্ষীরা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ। 

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে তার জানাজায় জনতার ঢল নামে। এর আগে তার মরদেহে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। জানাজার আগে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

জানাজার আগে মরহুমের জীবন ও কর্ম তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জগলুল হায়দার, জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোস্তফিজুর রহমান, সাবেক এমপি ফজলুল হক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশু, জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সাতক্ষীরা ও ঢাকায় সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিতেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসান (সিআইপি)।

জানাজাপূর্ব সমাবেশে ড. কাজী এরতেজা হাসান বলেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির মহীরুহ ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ। তার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে তিনি আমাদের পথচলার পাথেয় হয়ে থাকবেন। তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, নিবিড়ভাবে তার স্নেহধন্য হয়েছি। মানুষের জন্য রাজনীতি করতে হবে; এখানে চাওয়া পাওয়ার হিসাব মিলাতে নেই এই কথাটিই মৃত্যুর কয়েকদিন আগে মুনসুর আহমেদ আমাকে বলেছিলেন। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। 

জানাজার আগে মোবাইল ফোনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদও। জানাজা শেষে মুনসুর আহমেদের মরদেহ নেওয়া হয় পীরে কামেল খানবাহাদুর আহছানউল্লা’র স্মৃতি বিজড়িত নলতা শরীফে। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জানাজা। এরপর মরহুমের নিজ বাড়ি দেবহাটা উপজলোর পারুলিয়া মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সোমবার রাত ১১টায় রাজধানী ঢাকার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মুনসুর আহমেদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি করোনাক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

করোনা নেগেটিভ আসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১২ জানুয়ারি তাকে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।