বায়ো-বাবলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ আয়োজনের জন্য পরিশ্রম করছিল ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)। কিন্তু হঠাৎই ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ দেখিয়ে তিন টেস্টের সফরটি বাতিল করে অস্ট্রেলিয়া। এই সিদ্ধান্তে দারুণ নাখোশ দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ড। সিএসএ’র ডিরেক্টর অব ক্রিকেট সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার চাহিদা যাতে মেটাতে পারি তার জন্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম আমরা। অনেক লম্বা সফর হওয়ায় আমাদের দায়িত্বও বেশি ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করা অত্যন্ত হতাশাজনক।’
সিরিজ আয়োজনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত স্মিথ। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। তাছাড়া হোটেল স্টাফ ও পরিবহন কর্মীসহ অন্যদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। অতিথিদের জন্যও রেখেছিলেন ভিআইপি চিকিৎসা ব্যবস্থা। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা শোয়েব মাঞ্জরার বলেছেন, ‘সিএর কাছে যে প্রটোকল আমরা প্রস্তাব করেছিলাম, তা ছিল অভূতপূর্ব। প্রথমত, আমরা ঠিক করেছিলাম, অস্ট্রেলিয়ান দলের আগমনের ১৪ দিন আগে আমাদের দল জৈব-সুরক্ষা বলয়ে প্রবেশ করবে।’ কিন্তু এতকিছুর পরও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিল করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিল করার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব সম্ভাবনার দুয়ার খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। এমনকি সিএ’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিক হকলি দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া সফরে আসার জন্য।
অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হকলি বলেছেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই সফর বাতিল করা হয়েছে। এর সঙ্গে অর্থের কোনো যোগাযোগ নেই। ভবিষ্যতে সময় এলে নিশ্চয়ই সফর করা হবে।’ তবে এই মন্তব্যের পর অস্ট্রেলিয়ায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে হকলি বলেন, ‘আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তকে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করতে হবে তারা বায়ো-বাবল এবং কোয়ারেন্টাইন প্রটোকল সম্পূর্ণ মেনে চলবে। এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা চলবে না।’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বাতিলের জন্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিলেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রস্তাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সিরিজ বাতিলে ক্ষতি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ারই। ৬৯.২ শতকরা পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে ৩ নম্বরে তারা। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জিতলে জুনের লর্ডস ফাইনালে উঠতে পারত তারা। তবে এখনো সম্ভাবনা আছে। যদি ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ ড্র হয়, অথবা সিরিজে ভারত জেতে ১-০ বা ইংল্যান্ড জেতে ১-০, ২-০ বা ২-১ টেস্টে।