‘কমলা রকেট’ ছবিতে মোশাররফ করিমের অভিনয় দেখে তার অনুরাগী হয়ে ওঠেন কলকাতার অভিনেতা-পরিচালক ব্রাত্য বসু। ঠিক করেন ‘ডিকশনারি’তে ঢাকার অভিনেতাকেই রাখবেন। সেই ছবি কলকাতায় মুক্তি পাবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে ব্রাত্য জানান, মোশাররফ করিমকে পরের ছবিতেও রাখতে চান। তবে বিষয়টি পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। শুধু বলেন, “(মোশাররফ করিম) হয়তো আমার সঙ্গে পরের কাজও করবেন।”
ছবিটি প্রসঙ্গে ধারণা দিতে গিয়ে ব্রাত্য বলেন, “একটা পলিটিক্যাল থ্রিলার বানানোর ইচ্ছে আছে, পিরিয়ড পিস হবে। অনেকটা ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ ধাঁচের।”
কয়েক দিন আগে মোশাররফ করিম সম্পর্কে বলেন, “অসাধারণ। ওর ‘কমলা রকেট’ দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি প্রযোজকদের জোর দিয়ে বলেছিলাম, এই চরিত্রটার জন্য মোশাররফ করিমকেই চাই। ওরা রাজি হন। বাংলাদেশে গিয়ে আমরা ওর সঙ্গে চুক্তি করে আসি। এই ছবির ‘ডার্ক হর্স’ অবশ্যই মোশাররফ করিম।”
মাসখানেক আগে আরেক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, ‘‘আমার তো মনে হয় মোশাররফ করিম বাংলা ছবির ক্ষেত্রে একটা বড় আবিষ্কার হতে চলেছে। বাংলাদেশের স্টার ও। এই বাংলায়, এ ছবিতে অসামান্য কাজ করেছে।’’
বুদ্ধদেব গুহর ছোট গল্প ‘বাবা হওয়া' ও ‘স্বামী হওয়া' নিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘ডিকশনারি’। আর এই ছবি দিয়েই প্রায় ১০ বছর পরে আবারও ছবি পরিচালনায় ফিরলেন ব্রাত্য।
তিনি বলেন, ‘‘আমি এমন এক ছবির কথা বলতে চেয়েছিলাম যা মানব সম্পর্কের রহস্যের কথা বলবে সহজভাবে, মানবিকতার মোড়কে। বুদ্ধদেব গুহর দুটো গল্প নিয়ে লিনিয়ার ন্যারেটিভ তৈরি করলাম। গল্প দুটো পড়েছিলাম অনেক আগে, কম বয়সে। মাথায় থেকে গিয়েছিল। দুটোকে মিশিয়ে দিলাম।’’
‘বাবা হওয়া’ গল্পে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম এবং ব্রাত্যর স্ত্রী পৌলমী বসু।
এ ছবি প্রসঙ্গে ডিসেম্বরে মোশাররফ বলেছিলেন, ‘‘শুটিংয়ের পর থেকেই চাপা উত্তেজনায় ভুগছিলাম। কেমন হচ্ছে ‘ডিকশনারি’? কবে দেখব? ডাবিংয়ে এসে দেখলাম বেশ ভালো ছবি হয়েছে। প্রথম দৃশ্য থেকেই জমে গেল গল্পটা। আমি তৃপ্ত।’’
‘ডিকশনারি’র ‘স্বামী হওয়া’ গল্পের মুখ্য তিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত জাহান, আবীর চট্টোপাধ্যায় ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।