এত দিন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, যাচাই-বাছাইয়ে জানা গেল রাজাকার!

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেসামরিক গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের সময় দুই রাজাকারকে চিহ্নিত করেছে কমিটি। তারা হলেন মোন্তাজ আলী ও মৃত ওসমান আলী। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক প্রেরিত তালিকায় মৃত ওসমানের নাম ৬ ও মোন্তাজ আলীর নাম ৭ নম্বরে রয়েছে।

তৎকালীন জেলা প্রশাসকের রাজাকারের তালিকায় তাদের রাজাকার হিসেবে যোগদানের তারিখ ২৯ অক্টোবর ১৯৭১ উল্লেখ আছে।

জানা গেছে, মোন্তাজ তিন মুক্তিযোদ্ধাকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নিয়ে আসেন। তারা উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যদের জেরার মুখে স্বীকার করেন, মোন্তাজ তাদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেন নাই। তখন ওই মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকারে পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসার জন্য ভর্ৎসনা করা হয়। এরপর রাজাকার মোন্তাজকে যাচাই-বাছাইস্থল থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।

মৃত রাজাকার ওসমানের পক্ষে তার ওয়ারিশ ফরম জমা দিতে এলে তিনিও জেরার মুখে সাক্ষ্য দিতে পারেন নাই।

এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

রাজাকার মোন্তাজ আলী বলেন, তিনি রাজাকার ছিলেন। এরপর তিনি আত্মসমর্পণ করেন এবং পক্ষ বদল করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তবে তার এই বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো সাক্ষ্য আনতে পারেন নাই তিনি।

এ ব্যাপারে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, কমিটি বসে আরো অধিকতর সত্যাসত্য যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।