বইমেলার স্টল নির্মাণ এ সপ্তাহে শুরু

চলতি সপ্তাহ থেকে অমর একুশে বইমেলার স্টল নির্মাণের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ। এরই মধ্যে আগ্রহী প্রকাশকদের আবেদন সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কতজন প্রকাশক এবার মেলায় অংশ নিচ্ছেন সে ব্যাপারে এখনই নিশ্চিত করতে পারেননি জালাল আহমেদ। অন্যদিকে মার্চ-এপ্রিল মাসে মেলায় ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে চিন্তিত প্রকাশকরা।

গতকাল শনিবার জালাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ছিল আবেদনের শেষ তারিখ। আজ রবিবার ব্যাংকের তালিকা হাতে পাওয়ার পর জানা যাবে কতজন প্রকাশক স্টলের জন্য আবেদনের টাকা জমা দিয়েছেন। তারপর লটারির মাধ্যমে স্টলের বিন্যাস নিশ্চিত করা হবে। এ সপ্তাহ থেকেই স্টল নির্মাণের কাজ শুরু হবে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্টল বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

বাংলা একাডেমির একটি সূত্র জানিয়েছে, শতাধিক প্রকাশক আগেই টাকা জমা দিয়েছিলেন। পরে টাকা জমা দেওয়ার তারিখ বাড়ানোর পর আরও চার শতাধিক প্রকাশক টাকা জমা দিয়েছেন। তবে ব্যাংকের তালিকা আসার পরই মূলত জানা যাবে কতজন প্রকাশক এবার অংশ নিচ্ছেন মেলায়।

করোনা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে যাওয়া বইমেলা শুরু হবে আগামী ১৮ মার্চ থেকে, চলবে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত। করোনার জন্য এবার প্রকাশকদের কাছ থেকে স্টল ভাড়া অর্ধেক নেওয়া হচ্ছে। এদিকে মার্চ-এপ্রিল মাসে বইমেলা আয়োজনের কারণে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে বলে কিছুটা চিন্তিত রয়েছেন প্রকাশকরা। এ ছাড়া করোনার কারণে আর্থিক সংকটেও রয়েছেন অধিকাংশ প্রকাশক। ফলে মেলায় বিগত বছরের তুলনায় বই প্রকাশের সংখ্যা কম হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা হয়, সেখানেও দু-একবার ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়তে হয়। এবার তো মার্চ-এপ্রিলে মেলা হবে। ওই সময়টাতে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা থাকে। তাই এবার প্রকাশকদের বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি বছর তো বাংলা একাডেমি টিন দিয়ে স্টলের স্ট্রাকচারটা তৈরি করে দেয়, তারপর প্রকাশকরা নিজেদের টাকায় স্টল নির্মাণ করেন। এবার বাংলা একাডেমিকে আমরা বলেছি, এবার যেন বেশি পরিমাণ টিন দিয়ে মজবুত স্ট্রাকচার তৈরি করে। আর প্রকাশকদেরও বাড়তি নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রাখতে হবে।’

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন একুশে বইমেলা শুরু হলেও এবার মহামারীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বইমেলার আয়োজন স্থগিত রাখার জন্য ডিসেম্বরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। পরে ভার্চুয়ালি বইমেলা করার প্রস্তাব এলেও বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি তাতে আপত্তি জানায়। মেলাসংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গত ১৭ জানুয়ারি জানান, বিলম্বিত হলেও বইমেলা সরাসরিই হবে। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ১৮ মার্চ মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত জানানো হয়।