সারাদেশে করোনার গণটিকা শুরু

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেন।

প্রথম দফায় অগ্রাধিকারভিত্তিক ১৮ শ্রেণির করোনাসম্মুখযোদ্ধা এবং ৫৫ বছর-ঊর্র্ধ্ব নাগরিকরা বিনামূল্যে এই টিকা পাচ্ছেন।

এদিকে সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনার টিকা নেন হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত হক ও বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম।

টিকা নেওয়ার পর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, করোনা টিকা নিয়ে মানুষের ভীতি কেটে যাবে।

ইতিমধ্যেই দেশে আসা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৭০ লাখ টিকা দিয়েই শুরু হচ্ছে এই টিকাদান কর্মসূচি।

এর মধ্যে ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছে ২০ লাখ এবং বাংলাদেশ কিনেছে ৫০ লাখ টিকা।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, মোটামুটি সব কেন্দ্রের প্রস্তুতি ভালো। আমরা ঢাকার হাসপাতালগুলো ঘুরেছি। প্রস্তুতি ভালো আছে। আশা করছি, সব কাজ সুন্দরভাবে শুরু করতে পারব।

তিনি জানান, আজ সকাল ১০টা থেকে ঢাকাসহ জেলা-উপজেলায় টিকাদান শুরু হবে। এরপর থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে। যারা টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের মোবাইলে গতকাল রাতের মধ্যেই এসএমএস চলে যাওয়ার কথা।

টিকাদানের প্রথম দিনে আজ ঢাকাসহ সারা দেশে ১০০৫টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ঢাকার ৫০টি কেন্দ্র রয়েছে। ঢাকায় ২০৪টি এবং ঢাকার বাইরে ২ হাজার ১৯৬টি স্বাস্থ্যকর্মীদের দল এসব কেন্দ্রে সরাসরি টিকাদানে নিয়োজিত থাকবেন। ধারাবাহিকভাবে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে মোট ৭ হাজার ৩৪৪টি দল প্রস্তুত করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকাতে ৫০টি হাসপাতালে ২০৪টি টিম কাজ করবে, সারা দেশে ৯৫৫টি হাসপাতালে ২ হাজার ১৯৬টি টিম কাজ করবে। এ ছাড়া ভ্যাকসিনবিষয়ক কার্যক্রমের জন্য টিম প্রস্তুত রয়েছে ৭ হাজার ৩৪৪টি। তবে আপাতত ২ হাজার ৪০০ জনকে দিয়ে আজকের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।