আল–জাজিরার প্রতিবেদনের তদন্ত হলেই কী হয়েছে জানা যাবে: গওহর রিজভী

কোনো তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আল–জাজিরার প্রতিবেদনটি করা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, এটা করা হয়েছে সমালোচনা করার জন্য, হেয় করার জন্য। প্রতিবেদনটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর আক্রমণ।

তিনি বলেছেন, তদন্ত হতে হবে। তাহলেই জানা যাবে, কী হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির হলুদ সাংবাদিকতাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও সুনীল অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে ইসরায়েল থেকে গোয়েন্দা নজরদারির সামগ্রী কেনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গওহর রিজভী বলেন, আমরা আপাতত শুধু আল–জাজিরার প্রোগ্রামটা দেখেছি। সেটা কোনো এভিডেন্সের (তথ্য–প্রমাণ) ওপর ভিত্তি করে নয়। আমাদেরকে ক্রিটিসাইজ (সমালোচনা) করার জন্য, আমাদের ওপর হামলা করার জন্য, আমাদের অবস্থানটাকে আন্ডারমাইন (হেয়) করার জন্য উনারা নানান অভিযোগ তুলেছেন। এটাকে ভালো করে তদন্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রথমে জানতে হবে গোয়েন্দা নজরদারির সামগ্রী কেনা হয়েছে কি না। কেনা হয়ে থাকলে কোথা থেকে কিনেছে। প্রযুক্তিসামগ্রী অনেক সময় দ্বিতীয় দেশ, তৃতীয় দেশ দিয়ে কেনা হয়। আর কী ধরনের প্রযুক্তি কেনা হয়েছে, সেটা বাংলাদেশে ব্যবহার হবে না বিদেশে ব্যবহার হবে—এ বিষয়ে অনুমান না করে তদন্ত হতে হবে। তাহলেই জানা যাবে, কী হয়েছে।

আল–জাজিরার প্রতিবেদনটিকে একেবারে ‘ইরেসপনসিবল’ (দায়িত্বজ্ঞানহীন) ও তাতে কোনো ‘এভিডেন্স’ নেই দাবি করে গওহর রিজভী বলেন, ‘অনেক অভিযোগ, অনেক বক্রোক্তিতে ভরা। আপনারা সারা দেশের ঘৃণার প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। দেশে এত উন্নতি হয়েছে। আমরা যেখানে আমরা কোভিডকে ভালোমতো সামাল করেছি, ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আমাদের দেশে জায়গা দিয়েছি, আমাদের দেশ এত সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই সময়ে এ ধরনের প্রোগ্রামের কী মানে?’

সাংবাদিকেরা আরও জানতে চান, তদন্তের কোনো উদ্যোগ সরকার নিয়েছে কি না এবং এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না। জবাবে গওহর রিজভী বলেন, ‘আমি যা জানি, সেটা ইতিমধ্যে আপনাদের সামনে বলেছি। নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেওয়া হচ্ছে। আরও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেওয়া হবে। কিন্তু এই একটা ইয়েলো জার্নালিজমকে (হলুদ সাংবাদিকতা) আমরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এটা আসলে যা, সেভাবেই তাকে দেখা উচিত—ইয়েলো জার্নালিজম, সেনশেনালিজম (চাঞ্চল্য তৈরি করা)।’

তিনি প্রতিবেদনটির শিরোনাম নিয়ে আপত্তি তুলে বলেন, শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’। এটা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর আক্রমণ।

গওহর রিজভী বলেন, ‘আমাকে প্রশ্ন করেছেন কিছু শেখার ছিল কি না। আপনি আমাকে বলেন, কোনো এভিডেন্স ছিল? এখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ওপর ইঙ্গিত করতে পারে?...সাংবাদিক হিসেবে আপনাদের প্রশ্ন করা উচিত, এভিডেন্স কোথায়? কেন প্রধানমন্ত্রী? তিনি কী করেছেন? উনি কী দোষ করেছেন, প্রতিবেদনে কি দেখিয়েছেন? সাংবাদিকদের উচিত, ওদেরকে প্রশ্ন করা, আমাদের নয়।’ কোনো অন্যায় হলে, দুর্নীতি হলে, স্বাভাবিকভাবেই যথেষ্ট তদন্ত হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।