নবজাতক, আইটি পরামর্শক ও ডাইং শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

রাজধানীতে রবিবার পৃথক স্থান থেকে নবজাতক, বেপজার আইটি কনসালট্যান্ট ও ডাইং কারখানা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে রাখা হয়েছে।

শাহবাগ থানার এসআই খায়রুল ইসলাম জানান, ঢামেক হাসপাতালের বাগান গেট থেকে আজ বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে দুই হাত ও মস্তকবিহীন এক নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ নবজাতকটি মৃত অবস্থায় ফেলে দেওয়ার পর কুকুর মাথা এবং হাত খেয়ে ফেলেছে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

অপর ঘটনায় ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডের একটি ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ওমর ফারুক তানিম নামে বেপজার আইটি পরামর্শকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে।

ধানমন্ডি থানার এসআই নাজমুল হুদা জানান, ধানমন্ডি ৬ নম্বর রোডের ১৯/ডি নম্বর বেপজা ভবনের সামনের রাস্তা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তবে সে কিভাবে পড়েছে বা কেউ ফেলে দিয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।

নাজমুল আরও জানান, পরিবারের সঙ্গে গ্রিন রোডের একটি বাসায় থাকত সে। তার কোনো সন্তান নেই। তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি, ওমর ফারুক মানসিকভাবে একটু অসুস্থ ছিল। তার চিকিৎসা চলছিল।

ওমর ফারুকের সহকর্মী মাকসুদুর রহমান জানান, ওমর ফারুক বাংলাদেশ বেপজার আইটি সিস্টেম পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সকালে অফিসে যান। পরে ছাদ থেকে পড়ে তার মারা যাওয়ার খবর পান।

থানা-পুলিশ জানায়, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অথবা কেউ তাকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অপর ঘটনায় রাজধানীর ডেমরায় মো. শুক্কুর আলী (৪৫) নামে একজন প্রিন্টিং শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার পৌনে ৯ টার দিকে বামৈল এলাকার ডেমরা ডাইং নামের প্রিন্টিং কারখানার ৪ তলার ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ শুক্কুর আলীকে ঢামেক হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় রেনোভা ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এ সময় ওই ক্লিনিকের কর্তব্যরত ডাক্তার শুক্কুর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে খবর পেয়ে ডেমরা থানা-পুলিশ ওই ক্লিনিক থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বিকেলে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মির্টফোর্ড) মর্গে পাঠায়।

শুক্কুর আলী চাঁদপুরের কচুয়া থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে। গত ২০ থেকে ২২ বছর ধরে শুক্কুর আলী ডেমরা ডাইংয়ে প্রিন্টিংয়ের কাজ করছেন।

কারখানার ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান মান্নান বলেন, আমাকে ফোন করার পর কারখানায় এসে দেখি শুক্কুর আলীর লাশ ছাদের নিচে পড়ে আছে। কিভাবে পড়েছে তা আমি দেখিনি কিন্তু শ্রমিকদের কাছে শুনেছি।

ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, শুক্কুর আলী অসুস্থতাজনিত কারণে বমি করে। পরে তার ব্রেইন স্ট্রোক হয়ে ছাদ থেকে পড়ে থাকতে পারেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।