করোনাভাইরাস মহামারী বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো ইন্দোনেশিয়াতেও কঠিন বাস্তবতা নিয়ে এসেছে। করোনার অর্থনৈতিক প্রভাবে বহু মানুষ রাতারাতি কর্মহীন বেকার হয়ে গেছে। যারা করোনার আগে দিনমজুরের কাজ করতেন, তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। কথায় আছে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ অনেক কিছু করতে পারে। ইন্দোনেশিয়ায় পুরিয়ান্তি নামে এক নারী অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে পথে দাঁড়িয়েছেন আজ। তবে তারা পথে দাঁড়িয়েছেন ভিন্ন আঙ্গিকে।
সারা শরীরে রুপালি রং মেখে রোবটের সাজে পথে বের হন পুরিয়ান্তি ও তার সন্তান। রাজধানী জাকার্তার ব্যস্ত রাস্তায় রুপালি সাজে রোবট হিসেবে কসরত দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন তারা। পথচারীরা তাদের দেখে খুশি হয়ে কিছু টাকা দিলেই তবে সেদিন তাদের ঘরে চুলা জ্বলে। পুরিয়ান্তির মতো আরও অনেকে আজ জার্কাতার রাস্তায় এভাবেই মানুষকে বিনোদন দিয়ে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পুরিয়ান্তি বলেন, ‘কেউ আমাদের টাকা দেয়, আবার কেউ দেয় না। মাঝে মাঝে কেউ আবার চাহিদার চেয়েও বেশি দেয়।’ গত তিন মাস ধরে রাস্তায় রুপালি মানব সেজে খেলা দেখাচ্ছেন তারা। বিবাহ বিচ্ছেদের আগে তিনি ছিলেন সাধারণ গৃহিণী। স্বামী উপার্জনক্ষম থাকায় অন্য কোনো কাজ করতে হয়নি তাকে। এখন প্রতিদিন মাত্র ৫ ডলার উপার্জনের জন্য তাকে দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। নিজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পুরিয়ান্তি বলেন, ‘আমি যে কাজ করি তা নিয়ে কোনো লজ্জা নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসবই আমি আমার সন্তানের জন্য করছি।’
অঙ্গসজ্জার জন্য এই রুপালি মানবরা ঘরে তৈরি রং ব্যবহার করেন। এই রং ব্যবহার করায় তাদের শরীরে কোনো বাজে প্রভাব পড়ে না। স্ক্রিন প্রিন্টিংয়ের পাউডার এবং ভোজ্য তেলের মিশ্রণে ওই রং তৈরি করা হয়। করোনা মহামারীতে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থমন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। করোনার আগেই বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত ছিল দেশটি। এর মধ্যেই করোনার আঘাতে দেশটির অর্থনীতিতে ২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমে যায়। প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বহু খাত রাতারাতি বন্ধ হয়ে গেছে।