লাথি দিয়ে গর্ভের সন্তান হত্যার মামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ঢাকা উত্তরখান থানা বড়বাড়ি এলাকায় এক নারীকে পিটিয়ে আহত ও লাথি দিয়ে গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন উত্তরখান থানার ওসি আব্দুল মজিদ।

থানা সূত্রে জানায়, জোর করে ঘরে প্রবেশ, পরিকল্পনা অনুযায়ী মারপিট, গর্ভাবস্থায় শিশু সন্তান হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হওয়া এক মামলায় প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা গেছে, প্রিন্স ছাত্রদলের উত্তর খান থানার ২০১৩ সালের কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। বর্তমানে যুবলীগের কথিত নেতা।

ওসি আব্দুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রিন্সকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হবে।

তিনি বলেন, ‌১০ বছর ধরে পারিবারিক একটা ঝামেলা ছিল। বৈঠক করে কাউন্সিলরের মাধ্যমে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটল।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী ফারহানা আফরোজ লিপি বলেন, আমার ননদের স্বামী আরিফুল ইসলাম প্রিন্স বেকার ও ভবঘুরে। আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার পর আমার স্বামীর সম্পদ দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে আমার স্বামী ও আমাকে মারধর ও নির্যাতন করে। এ বিষয়ে আমি ও আমার স্বামী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে উত্তরখান থানায় জিডি করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিন্স আমার স্বামী ও আমাকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করে।  

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ ফেব্রুয়ারি আমাকে বাসায় একা পেয়ে হামলা চালায়। আমার বাসায় ঢুকে মোটা কাঠের লাঠি দিয়ে আমার মাথা সজোরে আঘাত করে। আমি সরে গেলে আমার হাতে লাগে ও আমার হাত ভেঙে যায়। তখন আমি মাটিতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্স আমার পেটের সজোরে লাথি মারে। লাথি মারার সঙ্গে সঙ্গে বলতে থাকে তোর পেটের সন্তানকে এই পৃথিবীতে আসতে দেব না। এতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরবর্তীতে আমি নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তার আমাদের জানায়, আমার পেটের সন্তানকে আরিফুল হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার শিশুহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী মিরাজ উদ্দিন সুমন বলেন, প্রিন্স খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। কোনো কাজ করেন না, ভবঘুরে ও সন্ত্রাসী। আমার জায়গা দখল করার জন্য বিভিন্নভাবে আমাকে হয়রানি করছে ও নিজেকে যুবলীগের নেতা দাবি করে। সে আমার স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট করে ফেলেছে। আমি আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত শাস্তি চাই।