করোনা প্রতিরোধে গণ-টিকাদানের তৃতীয় দিনে রীতিমতো ভিড়ে ঠাসা ছিল চট্টগ্রামের টিকা কেন্দ্রগুলো। ইতিমধ্যে টিকা গ্রহণকারীদের টিকা পরবর্তী কোনো ধরনের পাশর্^প্রতিক্রিয়া না হওয়ায় চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের আগ্রহ দেখা গেছে টিকাগ্রহণে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে টিকা নিয়েছেন মোট ৬ হাজার ৫৯ জন। চাপ সামলাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) এবং জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে টিকাদানের আরও ১০টি বুথ। এ পর্যন্ত টিকা নিতে রেজিস্ট্রেশন করেছেন চট্টগ্রামের ৪৯ হাজার ৯৩১ জন। এদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৮২৭ জন টিকা নিয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুসারে, চট্টগ্রামে প্রথম দিন টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৯০ জন। এরপর দ্বিতীয় দিন ২ হাজার ৬৭৮ জন এবং তৃতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার নিয়েছেন ৬ হাজার ৫৯ জন। চমেক হাসপাতালে টিকাগ্রহীতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল গতকাল। সরকার টিকাগ্রহীতাদের বয়সসীমা ৪০ নির্ধারণের পর আগ্রহীদের সংখ্যা বেড়েছে। চমেকে টিকা নিতে আসা এক নারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনাকালীন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছি। টিকার প্রয়োজন ছিল। বয়স ৪০ নির্ধারণ করায় আমি টিকা নিয়ে পরিবারের সবাইকে উৎসাহিত করলাম। আগামী সপ্তাহে পরিবারের বয়স্করা টিকা নেবেন।’
বাড়তি চাপ সামলাতে চমেক ও জেনারেল হাসপাতালে বাড়ানো হয়েছে টিকাদানের বুথ। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে আমরা ৪টি বুথ দিয়ে টিকা কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। এখন আরও ৪টি বুথ বাড়িয়েছি। মোট ৮টি বুথে টিকাদান চলছে। আরও দুটি বুথ তৈরির কাজ চলছে। টিকাগ্রহীতাদের ভিড় এড়াতেই আমরা বুথ বৃদ্ধি করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় জড়িত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য ৪টি বুথে চলছে টিকাদান। আর সাধারণ জনগণের জন্য ৪টি বুথে টিকাদান চলছে। তবে ১০টি বুথ হয়ে গেলে আমরা আগামীকাল (আজ বুধবার) দ্বিতীয় তলায় বুথ স্থানান্তর করব পাঁচটি। সেখানে স্বাস্থ্যসেবায় জড়িত এবং তাদের স্বজনদের টিকা দেওয়া হবে।’
এদিকে নগরীর সাধারণ মানুষ টিকা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। নগরীর ইকবাল রোডের বাসিন্দা মো. ইলিয়াছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথম দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি টিকা নিয়ে সুস্থ আছেন, এরপর গত দুদিনে যারা টিকা নিয়েছেন তাদের শারীরিক কোনো জটিলতার কথা শুনিনি। রেজিস্ট্রেশন করেছি। টিকা নেব।’
মো. আলী নামে এক এনজিও কর্মকতা বলেন, ‘টিকা নিয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছে এমন সংবাদ দেখিনি। গ্রামে তো লোকজন ভিড় করছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। টিকা নেব আগামী সপ্তাহে।’
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, আনোয়ারা, সীতাকু-, সাতকানিয়া, রাউজান, মীরসরাই, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ ও পটিয়ায় টিকাদান চলছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ও উপজেলায় টিকাগ্রহীতাদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তৃতীয় দিন টিকা নিয়েছেন মোট ৬ হাজার ৫৯ জন। ইতিমধ্যে চমেক হাসপাতালে ৬টি বুথ বাড়িয়ে এখন ১০টি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৪টি বুথ ছিল, সেখানে আরও ৪টি বাড়িয়ে ৮টি করা হয়েছে। গ্রামেও মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য টিকার
বিকল্প নেই।’