২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী জেএমবির সিরিজ বোমা হামলা হয়। সে সময় সাতক্ষীরার পাঁচ জায়গাতেও বোমা হামলা হয়। ১৬ বছর পর এসব মামলার ১৪ আসামির মধ্যে ১২ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সাতক্ষীরা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ৮ জনকে ১৩ বছর করে ও ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজন খালাস পেয়েছেন।
১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, নাইম ওরফে আব্দুন নাইম (কলারোয়া, সাতক্ষীরা), ফখরুদ্দীন রাজি (পাথরঘাটা, সাতক্ষীরা সদর), মনিরুজ্জামান ওরফে মুন্না (ইটাগাছা, সাতক্ষীরা সদর), গিয়াসউদ্দিন সরদার (কাশেমপুর, সাতক্ষীরা সদর), বেলাল হোসেন ওরফে আব্দুল্লাহ, ইসমাইল ওরফে মো: হাবিবুর রহমান (উভয় চরশীখলিফাপাড়া, জামালপুর), মাহাবুবুর রহমান ওরফে লিটন ওরফে পলাশ ওরফে সানা, নুর আলী মেম্বর (কুল্যা, আশাশুনি, সাতক্ষীরা)।
বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, মনোয়ার হোসেন ওরফে উজ্জ্বল (ইটাগাছা, সাতক্ষীরা সদর), মন্তাজ ওরফে মমতাফ ওরফে মন্তাজ আলী (খড়িবিলা, সাতক্ষীরা সদর), মো.: আসাদুল (খড়িবিলা, সাতক্ষীরা সদর) ও আনিসুর রহমান খোকন (ইটাগাছা, সাতক্ষীরা সদর)।
খালাসপ্রাপ্ত দুজন হলেন, মো: সাইফ ওরফে আসাদুজ্জামান ওরফে হাজারি (কেশবপুর, যশোর) ও আবুল খায়ের (সাতানী, সাতক্ষীরা সদর)। পলাতক আছে আব্দুন নাইম ও মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় একসঙ্গে বোমা হামলা চালায় জেএমবি। এর মধ্যে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ রাজ্জাক পার্ক, জেলা জজ আদালত চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বর, বাস টার্মিনাল ও খুলনা মোড়ে একযোগে এই বোমা হামলা ও নিষিদ্ধ লিফলেট ছড়ানো হয়। ঘটনার দিনই সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বোমা হামলাকারী শহরতলির বাঁকাল এলাকার নাসিরুদ্দিন দফাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাতক্ষীরার রসুলপুরে জেএমবির ঘাঁটি চিহ্নিত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২০০৫ সালে পাঁচটি মামলা করে।
পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোহাম্মদ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন। এসব মামলায় জেএমবির জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ঢাকায় জেআইসিতে (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ছাড়াও জেএমবির বহু গোপন তথ্য জানান তারা। পরে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় সাতক্ষীরায়।
রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ। তাকে সহায়তা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ।
রায়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে আরও বলেন, এই বিচারের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মামলায় আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জিএম আবুবকর সিদ্দীক। তিনি আইনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ৩, ৪, ৬ ধারা প্রযোজ্য নয়। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি।