দুর্নীতির কারণে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত প্রতিবন্ধীরা: টিআইবি

জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। যে বরাদ্দ হয় তাও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সুবিধাভোগীদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায় না বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার ‘উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিবন্ধীতা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত চালানো গবেষণায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নানা গাফিলতির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

টিআইবি বলছে, করোনা শনাক্ত ও চিকিৎসার ড়্গেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকার পৃথক ব্যবস্থা করেনি। ফলে অধিকাংশ কর্মহীন দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বেসরকারিভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। করোনাকালে গত বছরের এপ্রিল-মে পর্যন্ত প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে থেরাপি, কাউন্সেলিংসহ সব সেবা বন্ধ ছিল। সরকারি আড়াই হাজার টাকা সহায়তার কর্মসূচিতে তালিকাভুক্তির ড়্গেত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এমনকি সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ও কোনো উদ্যোগ নেয়নি। প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের আওতায় সুবর্ণ নাগরিক কার্ড (পরিচয়পত্র) দেওয়া হলেও প্রান্তিকের অধিকাংশ প্রতিবন্ধী এটি না পাওয়ায় বিপাকে পড়েন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে নতুন ২ লাখ প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আসে। কিন্তু ভাতার অর্থের অংশবিশেষ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবন্ধী না হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের একাংশ তাদের আত্মীয় এবং পরিচিতজনদের সুবর্ণ কার্ড দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদবির করেছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিরা এ কার্ডের জন্য অর্থ নিয়েছেন। অনেকের কার্ড থাকলেও সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

টিআইবি বলেছে, মাঠ পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের ভাতা নির্ভর করে জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছার ওপর। দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্ড পেতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনও দায় এড়াতে পারে না। তারা বিভিন্ন থেরাপি মেশিন এবং প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের জন্য যেসব সহায়ক উপকরণ কিনেছে, তা নিম্নমানের।

এ অবস্থায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এর যথাযথ বাস্তবায়ন; এর আওতায় পরিচয়পত্রবিহীন প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত সুবিধা গ্রহণের ব্যবস্থা, অধিকার ও সুরক্ষা নীতিমালার আওতায় কমিটিগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট রাখাসহ বেশকিছু সুপারিশ করেছে টিআইবি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা প্রতিবন্ধীতার উন্নয়ন সূচকে যে ধারণার কথা বলি, তা বাস্তবে তাদের জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে না। এজন্য প্রতিবন্ধীরা উন্নয়নের অংশীদার হতে পারছেন না। অথচ তারাও আমাদের মতোই সমান অধিকার পাবে। অবস্থার উত্তরণে সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিরীক্ষার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।