বিল গেটস যখন স্কুলের ছাত্র তখনই তার মা তাকে তিনটি উপদেশ দিয়েছিলেন। উপদেশ তিনটি নিয়ে জানাচ্ছেন তৌফিক এলাহী
প্রচুর বই পড়বে। ক্লাসের পড়ার বাইরেও বিশাল একটি জগৎ রয়েছে। বই পড়লে সে বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে। নতুন নতুন সব বিষয়ের অপর বই পড়বে যেগুলো সাধারণত অন্যরা পড়ে না।
তুমি যেমন চিন্তা করবে তোমার জীবন তেমনই গড়ে উঠবে। বড় স্বপ্ন দেখবে, যেন নিজের কাছেই তা অসম্ভব মনে হয়।
জীবনে এমন কাজ করবে যা অন্য কেউ করছে না। সবার মতো হুজুগের পেছনে ছুটবে না। তুমি নিজেই পথ তৈরি করবে, মানুষকে স্বপ্ন দেখাবে।
বিল গেটস সারা জীবন তার মায়ের এই তিনটি উপদেশ মেনে চলছেন। তার মায়ের দেওয়া প্রথম উপদেশটি ছিল বই পড়া নিয়ে। বই হলো জ্ঞানের আকর। যুগযুগান্তর ধরে অর্জিত জ্ঞান বইয়ের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেছে মানুষ। এসব জ্ঞান যদি একজন মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে চাইত তাহলে সে খুব সামান্যই শিখতে পারত। বই পড়ার মাধ্যমে অন্যের ত্যাগ-তিতিক্ষায় অর্জিত জ্ঞান তোমরা খুব সহজেই নিজে আয়ত্ত করতে পারো। চারপাশের জগতের চেয়েও যে একটি বৃহৎ বিশ্বজগৎ আছে, সে জগৎ সম্পর্কে জানতে পারবে বই পড়ার মাধ্যমে।
বিল গেটসের মায়ের দ্বিতীয় উপদেশটি ছিল অন্যরকমভাবে ভাবতে শেখা নিয়ে। কোনো কাজ করার সময় যদি ব্যর্থ হও তাহলে পরেরবার ভিন্নভাবে চেষ্টা করে সফল হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আইনস্টাইনের একটি কথা রয়েছে, ‘বোকামি হলো সেটাই, যখন মানুষ ঘুরেফিরে একই কাজ করে যায় সবার মতো আর আশা করে ভিন্ন ফলাফলের।’ একটি বৃত্তের মধ্যে আটকে না থেকে ভিন্নভাবে চিন্তা ও কাজ করা সফলতা লাভের অন্যতম কৌশল।
তৃতীয় উপদেশটি ছিল নতুন কিছু করা নিয়ে। মানুষ যেভাবে ভাবে সে রকম বাস্তবতার মুখোমুখিই সে হয়। কেউ যদি অন্যদের মতো ভাবে এবং কাজ করে তাহলে সে অন্যদের মতো ফলাফল লাভ করবে। উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করতে পারবে না। তাই বড় হতে হলে অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। এমন বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে, যা অন্য কেউ ভাবতেও পারবে না। তারপর সেই লক্ষ্যপূরণে কাজ করতে হবে। লক্ষ্যপূরণ হলে সেই সফলতা হবে অন্যের জন্য অনুকরণীয়। এই উপদেশগুলো মেনে চলে তুমিও হতে পারো একজন অনুকরণীয় সফল মানুষ।