৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক বছরের অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে এবারের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের ফুল ব্যবসায়ীরা। ফুল ব্যবসায়ীদের আশা চলতি মাসে সারা দেশে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে। যার মধ্যে ৪০ কোটি টাকার ব্যবসা নির্ভর করছে বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে। ঢাকা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের ২৩টি জেলায় এখন নিয়মিত ফুলের চাষ হচ্ছে। এসব ফুলের বাজার মূলত বিশেষ দিবসকে ঘিরে। সারা বছর বিয়ে, গায়ে হলুদসহ নানা আয়োজনে ফুলের চাহিদা থাকলেও মূলত বছরের বিভিন্ন দিবসকে ঘিরে ফুলের ব্যবসা জমে ওঠে। এ ছাড়া বাজারে কৃত্রিম ফুল বেড়ে যাওয়ায় বিয়ের আসরে কমেছে চাষের ফুলের চাহিদা। অন্যদিকে প্রায় এক বছর করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন। ফলে সংকটে রয়েছে ফুল ব্যবসায়ীরা। তবে এবার ফেব্রুয়ারি মাসে মন্দা কাটবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

শাহবাগের নিউ ফুল তলা ফ্লাওয়ার শপের কর্মচারী মো. সজিব বলেন, ‘প্রতি বছরই বিভিন্ন দিবসকে ঘিরে ফুল বিক্রি বেশি হয়। গত বছরের পহেলা বৈশাখ হয়নি করোনার জন্য। এবার ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল বিক্রি ভালো হবে বলে আশা রয়েছে। কিন্তু শনি ও রবিবার আসলে বোঝা যাবে কেমন চাহিদা। এখন করোনার কারণে ক্রেতা না আসলে তো কিছু করার নাই।’

ফাতেমা পুষ্পালয়ের মালিক মো. রকিব আহম্মেদ বলেন, ‘করোনার পর দোকান খোলার পরও বিক্রি আগের মতো হয়নি। ভেবেছিলাম ডিসেম্বর থেকে বেচাকেনা বাড়বে অথচ ডিসেম্বর গেল, জানুয়ারি গেল ফেব্রুয়ারিও চলে যাচ্ছে। অথচ এখনো আমাদের বেচাকেনা বাড়েনি। এখন বসন্ত উৎসব, একুশে ফেব্রুয়ারিতে যদি বিক্রি বাড়ে, সেই আশায় আছি।’

বাজারে কৃত্রিম ফুল থাকার কারণে চাষের ফুলের চাহিদাও কমছে বলে জানা যায়। এখন বিভিন্ন বিয়ের আসরে বা গায়ে হলুদের মঞ্চ সাজানো হচ্ছে কৃত্রিম ফুল দিয়ে। ফুল ব্যবসায়ীরা নানা সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, করোনার কারণে ফুলের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা ধারদেনা করে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। কয়েক দিন আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সরকার থেকে যদি ঋণ দেওয়ারও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে ফুল ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বাবুল প্রসাদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সারা দেশের ফুল শাহবাগে আসে, আবার এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফুল কিনে নিয়ে যায়। এখন দেশের ২৩ জেলায় ফুলের চাষ হচ্ছে। ফুলচাষি এবং বিক্রেতারা বসন্ত উৎসব এবং একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে লাভের আশায় বসে আছে। বসন্ত উৎসবে গোলাপ, গাঁদা ফুলের চাহিদা একটু বেশি থাকে। ফলে গোলাপ চাষিরা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফুল সংরক্ষণের চেষ্টা করে শুক্রবার থেকে ফুল তোলা শুরু করেছে।  শুক্রবার রাত ৯টার পর থেকেই শাহবাগে বসন্ত উৎসবের জন্য ফুল আসতে শুরু করেছে।