সব ধরনের ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলে নতুন ভূমিকায় কাজ শুরুর অপেক্ষায় শাহরিয়ার নাফীস। নতুন সেই শুরুর আগে পেছন ফিরে তাকিয়ে নাফীস বললেন, ‘আমার কোনো অতৃপ্তি নেই।’
এও বলেছেন, ক্রিকেট ছাড়ার এটাই আদর্শ সময় বলে মনে হয়েছে তার কাছে।
বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের নামের সামনে এখন থেকে যুক্ত হচ্ছে ‘সাবেক’ কথাটি। আর নতুন পরিচয়- তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ডেপুটি অপারেশন্স ম্যানেজার।
৩৫ বছর বয়সী নাফীস যখন ক্রিকেট ছাড়লেন, তখন তাকে নিয়ে আক্ষেপের অনেক কথাই আসতে পারে। একটা সময় ভবিষ্যৎ অধিনায়ক ভাবা হতো তাকে। ২০০৬ সালে দেশের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করা সেটিরই প্রমাণ বহন করে।
কিন্তু নাফীসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা সেভাবে এগোয়নি। এরপরও নাফীস যখন ক্রিকেট ছাড়ছেন, তখন যিনি বড় তারকার মর্যাদাই পাচ্ছেন। আসলে দেশের ক্রিকেটে একজন নাফীসের কাছে তো অনেক ঋণ!
সতীর্থ আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটকে বিদায় বলেন নাফীস। রাজ্জাকও যুক্ত হচ্ছেন ক্রিকেট বোর্ডে। তার নতুন ভূমিকা- নির্বাচক।
ক্রিকেট থেকে অবসর প্রসঙ্গে নাফীস বলেন, ‘আমি আর খেলব না, সেটার জন্য কষ্ট লাগছে, ব্যাপারটা তা না। একটা অদ্ভুত অনুভূতি। একটা জিনিস বলব, আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনেক ভেবেচিন্তে নিয়েছি।’
তার কথায়, ‘যখন মনে করেছি, ক্রিকেটে খেলোয়াড় হিসেবে আর কিছু কন্ট্রিবিউট করতে পারব না, তখন ভেবেছি ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকব। মনে হয়েছে, এটাই আদর্শ সময়। ক্রিকেটার হিসেবে যা দিতে পারতাম, অন্য ভূমিকায় ক্রিকেটকে বেশি দিতে পারব। কাজেই কষ্ট হয়নি।’
ক্যারিয়ার নিয়ে অতৃপ্তি নেই উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার কোনো অতৃপ্তি নেই। আরো বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে হয়তো পরিসংখ্যান অনেক ভালো হতে পারত। কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে তৃপ্তিটা বিচার করি না। খেলে বাংলাদেশের মানুষের, গণমাধ্যমের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার মনে হয়, এর চেয়ে বেশি ভালোবাসা কোনো খেলোয়াড়ের পাওয়া সম্ভব না।’
বিদায় বেলায় সবাইকে ধন্যবাদ দিয়েছেন নাফীস, ‘আমার বয়স যখন ১০, তখন থেকে আমার বাবা-মা আমাকে খেলার জন্য সমর্থন জুগিয়েছেন। এরপর সবচেয়ে বড় অবদান আমার স্ত্রীর। আমি অনেক কম বয়েসে বিয়ে করি। জীবনে অনেক ওঠানামা ছিল। সে আমার পাশে ছিল সব সময়।’
বিদায় আয়োজনের জন্য বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবকেও ধন্যবাদ দেন নাফীস, ‘আমাদের অনেক সাবেক ক্রিকেটার এ রকম বিদায় পাননি। সেদিক থেকে সৌভাগ্যবান। যদি কোভিড না থাকত, তাহলে হয়তো খেলে বিদায় নিতে পারতাম। তারপরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও কোয়াব যতটুকু করেছে তাতে ভীষণ খুশি।’
শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলার মধ্যাহ্নভোজনের বিরতির সময় আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন নাফীস ও রাজ্জাক।