কিংসকে রুখে দিয়েও আক্ষেপ জামালের

টানা সাত ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাল মাঠে নেমেছিল বসুন্ধরা কিংস। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল তাদের অজেয় যাত্রায় যতি টেনে দিয়েছে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। গোলশূন্য ড্রয়ে প্রথম পয়েন্ট হারাতে হলো কাগজে-কলমে সেরা কিংসকে। পরাশক্তিদের রুখে দিয়েও খুশি হতে পারেনি জামাল। তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা মাঠ ছেড়েছে ক্ষোভ নিয়ে। বাজে রেফারিংয়ের কারণে জয় যে হাতছাড়া হয়েছে তাদের। শেষ মুহূর্তে গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ওমর জোবের গোল ফাউলের অজুহাতে অবিশ্বাস্যভাবে বাতিল করে দেন রেফারি জালালউদ্দিন। অথচ এই ম্যাচটা জিতলে লিগ টেবিলের শীর্ষে যাওয়ার দারুণ সম্ভাবনা ছিল কিংসের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা জামালের। ড্রয়ে কিংসের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কিছুটা ঘোচাতে পেরেছে জামাল। আট ম্যাচ থেকে ২২ পয়েন্ট নিয়ে কিংস শীর্ষেই। ৭ ম্যাচ থেকে জামালের সংগ্রহ ১৭ পয়েন্ট। মুন্সীগঞ্জে দুর্বল আরামবাগকে ৪-০ গোলে হারানো আবাহনী লিমিটেড ১৮ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে।

কেন যেন নিয়মিতই কিংসের পক্ষে বেজে উঠছে রেফারির বাঁশি। এর আগে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষেও রেফারির ভুল সিদ্ধান্তগুলো সুবিধা দিয়েছিল ২০১৮-১৯ মৌসুমের লিগ জয়ীদের। দুটি নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনীকে। আর এবার রেফারির বাজে সিদ্ধান্তের বলি হতে হলো জামালকে। ঘটনাটা ৮৮ মিনিটে। বদলি উইঙ্গার জাহিদ হোসেন অসাধারণ এক থ্রু বাড়িয়েছিলেন গাম্বিয়ান ওমর জোবেকে। আট গোল নিয়ে লিগের শীর্ষ গোলদাতা জোবে মার্কারকে গতিতে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়ে আগুয়ান কিংস কিপার জিকোর পাশ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতেন। কিন্তু গোলের সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে রেফারির বাঁশি। জোবের সঙ্গে গতিতে হেরে যাওয়া কিংস ডিফেন্ডার তপু বর্মণ মাঠে পড়ে কাতরাতে থাকেন। রেফারি সেটা দেখেই গোল বাতিলের নির্দেশ দেন। অথচ টিভি রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায় জোবের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষই হয়নি তপুর। চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে বক্সের ভেতর হ্যান্ডবল হওয়ার পর কাতরানোর অভিনয় করে পার পেয়েছিলেন তপু। অথচ এই গোলটি হয়ে গেলে কিংসকে হারিয়ে শীর্ষে ওঠার পথটা প্রশস্ত করতে পারত জামাল।

এই ঘটনার আগে দু’দলই খেলেছে সাবধানী ফুটবল। প্রতি আক্রমণনির্ভর ফুটবলেই তারা চেয়েছে একে অপরকে ঘায়েল করতে। জামালের রক্ষণকে আলাদা কৃতিত্ব দিতেই হয়। স্থানীয় চার ফুটবলারকে নিয়ে গড়া জামালের রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচে ঠেকিয়ে রেখেছে কিংসের লাতিন অ্যাটাকিং থার্ডকে। বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার রেজাউল করিম রেজা এই ম্যাচেও আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন অসাধারণ ফুটবল খেলে। গোলকিপার জিয়াউর রহমান জিয়াকে টলাতে পারেনি কিংসের শক্তিশালী আক্রমণভাগ। আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় এই ম্যাচে ছিলেন না জামালের আক্রমণভাগের ভরসা গাম্বিয়ান অধিনায়ক সলোমন কিং। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তার দুই স্বদেশি ওমর জোবে ও সুলেমান সিলাহ এবং উজবেক ফরোয়ার্ড জনভ ওতাবেক বারবারই চেষ্টা করেছেন কিংসের রক্ষণে ফাটল ধরাতে। তবে সেভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি তারা।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে জয়ের পথে আবাহনীর হয়ে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ফ্রান্সিসকো তোরেস, আফগান মাসিহ সাইঘানি এবং দীপক রায়। আবাহনীর শেষ গোলটি অবশ্য আরামবাগের অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডার ব্র্যাড স্মিথের দেওয়া আত্মঘাতী। ৮ ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ১৮ পয়েন্ট আবাহনীর। অন্যদিকে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা পয়েন্টহীন আরামবাগের টানা সপ্তম হার এটি।

গতকালের শেষ ম্যাচে জাতীয় স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে জিতেছে সাইফ স্পোর্টিং। ২০ মিনিটে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর গোলে লিড নিয়েছিল শেখ রাসেল। দ্বিতীয়ার্ধে নড়বড়ে ডিফেন্স ও আশরাফুল ইসলাম রানার দুর্বল কিপিংয়ের মাশুল দিতে হয় তাদেরকে। ৫৭ মিনিটে রিয়াদুল হাসান ও ৭৪ মিনিটে উজবেক মিডফিল্ডার সিরাজদ্দিন রাখমাতুল্লায়েভের গোলে জয় নিশ্চিত হয় সাইফের। সপ্তম ম্যাচে তাদের এটি চতুর্থ জয়। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে যা তাদের পঞ্চম স্থানেই রেখেছে। রাসেলের আট ম্যাচে সংগ্রহ ১৬ পয়েন্ট।