কর্নওয়ালের ধৈর্যের জয়

৬৫ বছর পর টেস্টে এই প্রথম ইনিংসের সবকটি উইকেটই নিলেন ক্যারিবীয় স্পিনাররা। তার মধ্যে রাহকিম কর্নওয়ালের ৪টি। প্রথম ইনিংসের ৫ উইকেটশিকারি দ্বিতীয় ইনিংসে ঘোল খাইয়ে দেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু তাকেই প্রথমবারের মতো অসহায় মনে হচ্ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের সামনে। অফ স্পিনারের করা ৬১তম ওভারের ৪ ও ৫ নম্বর বলে ছক্কা-চারের পর শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখেন মিরাজ। ১৮ রান দরকার। পরের ওভারে ওয়ারিক্যানের মুখোমুখি চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের সেঞ্চুরিয়ান। নিজের ছন্দ বদলাতে পারেননি মিরাজ। ওয়ারিক্যানের বলটাও সোজা ব্যাটে খেলা হয়নি তার। ব্যাটের ছোঁয়া নিয়ে বল মাটি ছুঁতে যাবে, এ সময় তা লুফে নিলেন কর্নওয়াল। সঙ্গে সঙ্গে উদ্দাম আনন্দে মেতে উঠল ক্যারিবিয়ানরা। বিশাল দেহি কর্নওয়ালের গায়ের ওপর ঝুলে পড়ল সতীর্থ কয়েকজন। ৯ উইকেটের সঙ্গে মিরাজেরটিসহ ৩টি ক্যাচ।

শারীরিক গঠন, ক্ষিপ্রতা ও ফিটনেস মিলিয়েই আধুনিক যুগের ক্রিকেটাররা সুপার অ্যাথলেটের পর্যায়ে পড়েন। সে যুগে এসে সবচেয়ে বেশি ওজনধারী টেস্ট ক্রিকেটারের রেকর্ড ভেঙেছেন রাকিম কর্নওয়াল। তাই তার অফ স্পিনের চেয়ে বপুর দিকেই নজর থাকে সবার। কিন্তু নিজের কাজটা যে কত ভালো পারেন, সেটা প্রথম টেস্টেই দেখিয়েছিলেন। দ্বিতীয় টেস্টে আরও ভালো করে দেখালেন। কর্নওয়াল বলেছিলেন, নিজের শক্তির জায়গাটা ব্যবহার করতে পারেন বলেই সাফল্য পাচ্ছেন। শক্তির জায়গা হলো ধৈর্য ধরে একটানা ভালো জায়গায় বল করে যাওয়া। শুধু ধৈর্য ধরে বল করে গেছেন, আর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ধৈর্য পরীক্ষায় হার মেনে আউট হয়েছেন তার বলে।

৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতানো কর্নওয়াল বললেন সাফল্যের সহজ সূত্রের কথা, ‘এটা বেশ ভালো পারফরম্যান্স। প্রথম দিন থেকেই দলের মধ্যে একটা ভালো বোধ ছিল। কোচরা ভালো সমর্থন দিয়েছেন। কন্ডিশনে যখনই স্পিনাররা সাহায্য পেতে শুরু করেছে, আমি উপভোগ করেছি। আমি শুধু নিজের শক্তিতে জোর দিয়েছি, ঠিক জায়গায় বল ফেলেছি। আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে, ধারাবাহিক হতে হবে এবং চাপ সৃষ্টি করতে হবে।  স্লিপ ফিল্ডিং নিয়ে অনেক কাজ করেছি আমি। বল এলে ধরার চেষ্টা করি।’ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কি শুনছেন কর্নওয়ালের কথা।