অপরাধমূলক কাজের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জুরাইনে মো. জাকির হোসেন (৫২) খুন হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য, এলাকার চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ওয়ারী) বিভাগ (ডিবি)।
সোমবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. মাহবুব আলম।
তিনি বলেন, ‘গত রবিবার ঢাকা মহানগর ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজধানীর কদমতলী থানার হত্যা মামলার সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো, মো. শুক্কুর (২৭), নুরুল ইসলাম স্বপন (২৫), রতন ওরফে সোলাইমান ওরফে রেম্বো (২৩), মো. শফিকুর রহমান ওরফে দিপু (৩০), ফাহিম হাসান তানভীর ওরফে লাদেন (১৯), মো. তরিকুল ইসলাম তারেক (২৯), ও মো. মাসুদ পারভেজ (২৩)। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কদমতলী থানাধীন পূর্ব জুরাইন কলেজ রোডের নবারুন গলির মাথায় আনিসুর রহমানের বাড়ির সামনে জাকির হোসেন ও মজিবর রহমান ওরফে মোহনকে (৩৩) বুকে, পেটে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় পরে মারা যান জাকির। জাকিরের স্ত্রী বাদী হয়ে কদমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে ডিবির ওয়ারি বিভাগের ডেমরা জোনাল টিম।
ডিবির গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের অধিকাংশকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। হত্যায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত আছে।’
ডিবির অতি. উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আজহারুল ইসলাম মুকুল দেশ রূপান্তরকে জানান, হত্যা মামলার ছায়াতদন্ত করার সময় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পলাতক আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা পেশাদার অপরাধী। তারা একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য। এলাকায় তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য জাকির হোসেনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করে এবং মামলার অপর ভুক্তভোগী মজিবর রহমানকেও গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, কদমতলী থানায় আসামি শুক্কুরের বিরুদ্ধে চারটি, নুরুল ইসলাম স্বপনের বিরুদ্ধে তিনটি, রতন ওরফে সোলাইমানের বিরুদ্ধে দুটি, শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি, তানভীরের বিরুদ্ধে একটি এবং মো. মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।