কৃষক আন্দোলন নিয়ে সুইডিশ পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থানবার্গের টুইট নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছিল ভারত। গ্রেটার শেয়ার করা টুলকিটের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের এফআইআর নিয়ে জলঘোলাও হয়।
এবার সেই টুলকিটটি সম্পাদনা করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে বেঙ্গালুরুর এক পরিবেশকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচারের’ হয়ে কাজ করেন গ্রেপ্তারকৃত পরিবেশকর্মী দিশা রবি।
গ্রেটার পোস্ট করা টুলকিটের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা পড়ে দিল্লি পুলিশের কাছে। মামলা করা হয় ওই টুলকিট যারা তৈরি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও। যাদের সঙ্গে শিখদের খালিস্তানপন্থীদের যোগসাজশ রয়েছে, এমন অভিযোগও করা হয়।
বেঙ্গালুরুর ২২ বছর বয়সী দিশা টুলকিটটি সম্পাদনা করছেন ও ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই অভিযোগ ওঠে। যদিও তিনি পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শনিবার বেঙ্গালুরুর সোলাদেভানাহাল্লির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে দিশাকে দিল্লি নিয়ে আসে সাইবার অপরাধ পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই টুলকিটে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় লড়াই বাঁধিয়ে দেওয়ার ইন্ধন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বার্তা ছড়ানোর জন্য এটিকে ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে এনডিটিভিকে দিশা বলেছেন, টুলকিট তিনি তৈরি করেননি। শুধু দুটি লাইন সম্পাদনা করেছিলেন। রোববার তাকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে আনা হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি তাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এদিকে দিশাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তোলপাড় তৈরি হয়েছে ভারতজুড়ে। রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লিখেছেন, ‘যারা বন্দুক সঙ্গে রাখেন, তাঁরাই একজন নিরস্ত্র মেয়েকে ভয় পাচ্ছেন। সাহসিকতা দেখিয়েছে ওই নিরস্ত্র মেয়েটি।’ প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘দেশ চুপ করে থাকবে না।’
দিশার গ্রেপ্তারকে গণতন্ত্রের উপর অভূতপূর্ব আক্রমণ বলে সরব হয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, ‘কৃষকদের সমর্থন করা কোনও অপরাধ নয়।’
পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল তেহরিক-ই-ইনসাফও এ ইস্যুতে মুখ খুলেছে। এক টুইটে দলটি লিখেছে, ‘মোদি/আরএসএসের আমলে ভারতে সকলের কন্ঠরোধ করা হচ্ছে...টুলকিট মামলায় দিশা রবিকে হেফাজতে নেওয়া হলো।’