হবিগঞ্জে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ

তার নাম তমিজ উদ্দিন খান। চাকরি করছেন হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক পদে। কৃষি সম্প্রসারণে তিনি যতটুকু না কাজ করেন, তার চেয়ে বেশি দুর্নীতিকে সম্প্রসারণ করছেন তৃণমূল পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন সরকারের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।

উপ-পরিচালক পদে তিনি যোগদান করেন ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর। এর আগে তিনি হবিগঞ্জে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য), বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা পদে চাকরি করেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তমিজ উদ্দিন উপ-পরিচালক পদে যোগদান করেই তার অফিসের দুটি কক্ষকে বাসা হিসেবে ব্যবহার করছেন। বাসার বিদ্যুৎ, পানি সবকিছুই ব্যয় হচ্ছে অফিসের নামে। কিন্তু তমিজ উদ্দিন খান যে কক্ষে বসবাস করছেন এর ভাড়া বাবদ এক টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন না। অফিসের পাশে উপ-পরিচালকের যে বাসাটি রয়েছে তা পরিত্যক্ত দেখিয়ে এ সুযোগ নেওয়া হয়েছে। অফিসের সরকারি জিপকে তিনি করছেন যথেচ্ছ ব্যবহার।

সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা তমিজ উদ্দিনের পরিবার ঢাকায় বসবাস করেন। তারা হবিগঞ্জে এলেই সরকারি তেল পুড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। শুধু নিজের বরাদ্দ করা গাড়িতেই নয়, উপরন্তু চারটি (বাহুবল, চুনারুঘাট, বানিয়াচঙ্গ, নবীগঞ্জ) উপজেলায় ‘প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ প্রকল্পের গাড়িও ব্যবহার করছেন।

দেশ রূপান্তরের কাছে আসা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক বরাবরে পাঠানো আবেদনে গত ৯ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক তমিজ উদ্দিন খান ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি নৈমিক্তিক ছুটি এবং ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকায় কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি প্রার্থনা করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি তমিজ উদ্দিন খান নবীগঞ্জের প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে সপরিবারে ঢাকায় যান। গাড়ির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে টের পেয়ে ওইদিনই উপ-পরিচালক তমিজ উদ্দিন খান সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালকের কাছে পাঠনো আরেকটি আবেদনে   নৈমিত্তিক ছুটি ও কর্মস্থল ত্যাগ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ প্রতিনিধি গত ১০, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি একাধিকবার অফিসে গিয়েও তাকে পাননি।

অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, তিনি ছুটি নিয়ে ঢাকায় গেছেন। দুজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে দেশ রূপান্তর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা স্বীকার করেছেন যে, সারা মাসে অফিসের কাজে তাদের গাড়ি যতটুকু ব্যবহার হয়, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে উপ-পরিচালকের ব্যক্তিগত কাজের জন্য।

এছাড়াও কৃষি খামার বা উপজেলা অফিস পরিদর্শন না করেও বিল তোলা, প্রশিক্ষকের ভাতা তুলে নেওয়াসহ বীজ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তমিজ উদ্দিন খানের অনিয়মের বিরুদ্ধে সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালকের কাছে লিখিতও দিয়েছেন কৃষক গ্রুপের এক নেতা।

গত রবিবার বেলা ১১টায় উপ-পরিচালক তমিজ উদ্দিন খানের অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এসব মিথ্যা দাবি করে এ প্রতিনিধিকে সোমবার (গতকাল) তার অফিসে চায়ের আমন্ত্রণ জানান।