বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় এক সময়ের আলোচিত উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পাঁচ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান মঙ্গলবার দপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, আকরাম হোসেন, মো. আবু সিদ্দিক সোহেল, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ও মো. আরাফাত রহমান ওরফে সিয়ামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
আদালত বলেছে, আসামি শফিউর রহমান ফারাবী অত্র মামলায় কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। আসামি আবু সিদ্দিক সোহেল, আরাফাত রহমান সিয়াম এবং মোজাম্মেল হুসাইন সায়মন তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি শফিউর রহমান ফারাবীর নাম উল্লেখ করেননি।
ফারাবী হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত না থাকলেও ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিজিৎ রায়কে ‘হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন’ বলে তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়। সেই অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত।
রায়ে বলা হয়, ফারাবী ফেইসবুকে অভিজিৎ রায়ের নামে লেখালেখি করে। এসব স্ট্যাটাস পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয় যে, অভিজিৎ রায়কে নাস্তিক ব্লগার হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে আসামি শফিউর রহমান ফারাবীর সঙ্গে অন্য পাঁচ আসামির অভিন্ন মিল রয়েছে। ফারাবী অভিজিৎকে রায়কে নাস্তিক ব্লগার হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় এবং তার সঙ্গে তার স্ত্রী ও মেয়ের ছবি আপলোড করে হত্যার জন্য উন্মুক্ত আহ্বান করায় সুষ্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত পাঁচজন শফিউর রহমান ফারাবী দ্বারা প্ররোচিত হয়ে অভিজিৎ রায়কে হত্যার অভিন্ন অভিপ্রায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে এবং মূল হামলাকারীদের দিয়ে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করেছে।
সে কারণে ফারাবীকে ওই ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফারাবী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলনের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের জানাজা পড়ানোয় এক ইমামকে ফেইসবুকে হত্যার হুমকি দিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে ওই মামলায় তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ছয় মাস কারাগারে থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফারাবী তখন লিখেছিলেন- আমার দৃষ্টিতে নাস্তিকরা হচ্ছে পোকামাকড় আর পোকামাকড়দের মরে যাওয়াই ভাল। পরে ওই বছরই কয়েকজন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের নাম ও অনলাইন পরিচয় (নিক) উল্লেখ করে তাদের হত্যা করার জন্য র্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান এই বিতর্কিত ব্লগার।
অভিজিৎ রায়ের একটি বই বিক্রির ওয়েবসাইট থেকে সরাতেও হুমকি দিয়েছিলেন ফারাবী শফিউর রহমান।
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে হামলার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায়। চাপাতির আঘাতে আঙুল হারান তার স্ত্রী।