ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় গিয়ে বা ওইসব অঞ্চলে থাকা এশীয়রা বরাবরই জাতিগত বিদ্বেষের শিকার হন। এই বিদ্বেষের মাত্রা কখনো কখনো এতটাই বেড়ে যায় যে, খুনোখুনির মতো ঘটনাও ঘটে। করোনাকালে এই বিদ্বেষ বেড়েছে কয়েক গুণ। এশিয়ান প্যাসিফিক পলিসি অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিল নামে একটি সংস্থা জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে এশীয়-আমেরিকানদের ওপর দিন দিন বিদ্বেষপ্রসূত হামলা বেড়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় কমিউনিটিতে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে।
এশিয়ান প্যাসিফিক পলিসি অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ও স্টপ এএপিআই হেইট নামে একটি সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা মঞ্জুষা কুলকার্নি সিএনএনকে বলেন, বর্তমানে দেশজুড়ে যা চলছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। ১৯ শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে এশীয়দের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ঘটনা শুরু হয়। তৎকালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজেই চীনাদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী বক্তব্য দিয়েছিল। এই মহামারীর সময় থেকে তা আরও বাড়তে শুরু করেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টপ এএপিআই হেইট বর্ণবিদ্বেষ ও এশীয়দের প্রতি বিদ্বেষের ঘটনার বিষয়ে ২০১৯ সালের মার্চ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা শুরুর সময় থেকেই এই বিদ্বেষপ্রসূত হামলার হার বেড়ে যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে স্টপ এএপিআই হেইট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৭ রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি এশীয়বিরোধী ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মৌখিক হয়রানি, কোনো কারণ ছাড়াই এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ২১ শতাংশ, শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৯ শতাংশ ও উদ্দেশ্যমূলক ঠাট্টা ও গায়ে থুতু দেওয়ার মতো ঘটনা ৬ শতাংশ।
মঞ্জুষা কুলকার্নি বলেন, এসব ঘটনা ঘটছে মূলত ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্কসহ যেসব এলাকায় এশীয়দের বসবাস অনেক বেশি সেসব এলাকায়।
১০ ফেব্রুয়ারি এশিয়ান আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইয়র্ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রতিবেদন বলছে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এশীয়বিরোধী অপরাধের হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আট গুণ বেড়েছে।
এশিয়ান আমেরিকানস অ্যাডভান্সিং জাস্টিস নামের একটি সংস্থা বলছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি এশীয়বিরোধী অপরাধের প্রায় ৫০০টি অভিযোগ গ্রহণ করেছিল। আর গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা প্রায় ৩ হাজার অভিযোগ পেয়েছে।
এশিয়ান আমেরিকানস অ্যাডভান্সিং জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক জন সি ইয়াং বলেন, এই তথ্যের চেয়ে প্রকৃত ঘটনা আরও অনেক বেশি। কারণ, এই তথ্য মূলত জরিপ করে পাওয়া। তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় এশীয়বিরোধী অপরাধের হার অনেক গুণ বেড়েছে। সে সময় ট্রাম্প বারবার করোনাভাইরাসকে ‘চায়না ভাইরাস’ বলে অভিহিত করে আসছিলেন। তিনি এই ভাইরাসের জন্য এশীয় কমিউনিটিকে দায়ী করে আসছিলেন।
এদিকে চীনা নববর্ষের (লুনার নিউ ইয়ার) আয়োজন ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে খাওয়া-দাওয়া ও উপহার বিনিময় করেন। তবে করোনা মহামারীর কারণে এবার এই আয়োজন এমনিতেই সীমিত, তার ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কমিউনিটির মানুষরা আতঙ্কে রয়েছেন।