চৌদ্দগ্রামে গভীর নলকূপ বন্ধ থাকায় ২৮০০ শতক কৃষি জমির আবাদ ব্যাহত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শুভপুর ইউনিয়নের ফকিরহাটে গ্রামে বিএডিসি পরিচালিত একটি গভীর নলকূপ বন্ধ থাকায় ২৮০০ শতক জমিতে বোরো চাষ করতে না পারায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন স্থানীয় ২ শতাধিক কৃষক।

এতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া স্মারকলিপি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ফকিরহাটে অবস্থিত বিএডিসি কর্তৃক পরিচালিত একটি গভীর নলকূপের দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. আব্দুল মতিন মাস্টার, হাজী রফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম। এ বছর হাজী রফিকুল ইসলাম নলকূপটি পরিচালনার কথা ছিল। তবে গত বছর পরিচালনাকারী মাস্টার আব্দুল মতিনের স্বেচ্ছাচারিতা এবং নলকূপ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ট্রান্সফরমার-সরঞ্জামসহ নলকূপ ঘরটি তালাবদ্ধ রাখার কারণে হাজী রফিকুল ইসলাম নলকূপটি চালু করতে পারেননি। এ কারণে এলাকার প্রায় ২ শতাধিক কৃষক-কিষানি জমিতে সেচের পানি দিতে না পারায় বোরো আবাদ করতে পারেনি।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, বিএডিসি যদি পুনরায় মাস্টার আব্দুল মতিনকে সেচের দায়িত্ব দেয়, তারা কেউ বোরো আবাদ করবে না।

তারা স্থানীয়রা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বিগত দিনে আব্দুল মতিন সেচের কাজ পরিচালনা করার কারণে সঠিক সময়ে পানি না দেওয়ায় আমাদের অনেকের ফসল নষ্ট হয়েছে। পানি দেওয়ার কথা বললে তিনি কৃষকদের প্রায় সময়ই হুমকি-ধমকি দিতেন। তার নিজের কোনো কৃষি জমি না থাকায় প্রকৃত কৃষকদের দুঃখ বোঝেন না।

অভিযোগের বিষয়ে মাস্টার আব্দুল মতিন বলেন, অন্যদের নিয়ে পল্লি বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ করেছি। আমার কাছে কেউ নলকূপটি পরিচালনার জন্য চাবি নিতে আসেনি। বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিক হলে আজকালের মধ্যে নলকূপটি চালু হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজালাল বলেন, ‘কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে নলকূপটি চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে’। 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী (ভূমি) আল আমিন সরকার বলেন, ‘কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে পল্লি বিদ্যুতের বকেয়া পরিশোধ করে সংযোগসহ নলকূপটি চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে’।