পশ্চিমবঙ্গে বোমা হামলায় আহত শ্রমমন্ত্রী জাকির হোসেন

পশ্চিমবঙ্গের শ্রমমন্ত্রী জাকির হোসেনকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার রাতের এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, জাকির হোসেনকে দেখতে সকালে হাসপাতালে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনার জন্য কেন্দ্রের দিকে তোপ দাগেন তিনি। মমতা বলেন, “জাকিরের ভাগনে বলেছে রিমোটে বোমা ফাটানো হয়েছে। পুরোটাই পরিকল্পনামাফিক। জাকির কমিটেড ছেলে। ওকে কদিন ধরেই দল ছাড়তে বলছিল কেউ কেউ। একসঙ্গে ৩০-৪০ জন থাকে সব সময়। তাই গুলি করে লাভ হবে না বুঝেই বোমা ছুড়েছে।”

আরও জানান, এ ঘটনায় গুরুতর জখমদের পরিবার পিছু ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সামান্য আহতরা পাবে ১ লাখ রুপি।

বুধবার রাতে কলকাতা যাওয়ার পথে নিমতিতা স্টেশনে জাকির হোসেনকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা করা হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গুরুতর জখম হন মন্ত্রী-সহ কমপক্ষে ২৩ জন। একজন মারা গেছে, বাকিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মন্ত্রীর হাতের একটি আঙুলের আঘাত মারাত্মক। একটি পায়ের একাধিক জায়গায় স্প্লিন্টারের আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। বৃহস্পতিবার বেলা দশটায় অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে তার।

জাকিরকে দেখতে হাসপাতালে যান রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং ফুরফুর শরীফের পিরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি।

এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে মন্ত্রীরাও সুরক্ষিত নন বলে বিরোধী শিবির দাবি তুলছে। এমন প্রশ্নে ফিরহাদ বলেন, ‘‘বিরোধীরা মন্ত্রীদের সুরক্ষিত থাকতে দিচ্ছে না! গুজরাটে ২ হাজার লোককে খুন করা হয়েছিল। একজন সংসদ সদস্যকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটা রাজনৈতিক ঝগড়ার সময় নয়। কিন্তু এই প্রশ্ন এবং সন্দেহের জবাবে আমি এই কথাগুলো বলতে বাধ্য হচ্ছি! যেভাবে কথা গুলো বলা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, ‘এটা ঠাকুরঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি’ গোছের ব্যাপার নয় তো!’’