মিয়ানমারে সেনাশাসন বিরোধী বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ তরুণীর মৃত্যু

মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান হওয়ার পর এই প্রথম একজন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। বিক্ষোভে নেমে পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন তিনি।

বিবিসি জানায়, মিয়া থোয়ে থোয়ে খাইন নামের ২০ বছর বয়সী ওই নারী গত মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন।

সেদিন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পুলিশ জলকামান, রাবার বুলেট এবং গুলি ছোড়ে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই তরুণীর ভাই বলেছিলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে এবং বলার কিছু নেই।’

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল থোয়ে খাইনকে।

তিনি আহত হওয়ার পর মেডিকেল সূত্রগুলোকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বার্মিজ বিভাগ জানিয়েছিল যে, ওই নারীর মাথার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।

১ ফেব্রুয়ারি দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে।

এর আগে ১৯৮৮ এবং ২০০৭ সালে দেশটির কয়েক দশকব্যাপী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

১৯৮৮ সালের বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩ হাজার বিক্ষোভকারী মারা যায়, আর ২০০৭ সালে মারা গিয়েছিলেন ৩০ জন। দুই ঘটনাতেই হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

গত নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল এনএলডি পার্টি বিপুল ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর পার্লামেন্টে নতুন অধিবেশন শুরুর আগে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী।

নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেন সেনাশাসকেরা। সেনা সমর্থিত বিরোধী একটি দলও নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।

সু চি গৃহবন্দী রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ওয়াকি-টকি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ এনএলডির আরও অনেক নেতাও আটক রয়েছেন।