নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে বিকেল ৫টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন।
ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট বাজারে শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত দুই দফা সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।
সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৮) নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। তিনি বার্তাবাজারডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক।
গুলিবিদ্ধ অন্যরা হচ্ছেন- চরফকিরা ইউনিয়নের কামাল উদ্দিন (৫০), বড়রাজাপুর গ্রামের আবদুল ওয়াহিদের ছেলে সাইদুর রহমান (২৬), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে নুরুল অমিত (২০), বসুরহাট পৌরসভার আবুল কালামের ছেলে রায়হান (২০)।
অন্য আহতরা হলেন, চরফকিরা ইউনিয়নের মো. কাঞ্চন (৬০), মুছাপুর ইউনিয়নের আবুল খায়েরের ছেলে মাসুদ (২৫), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আবদুস সাত্তারের ছেলে কামরুল হাসান (৩০), চরফকিরা ইউনিয়নের আবদুল মান্নানের ছেলে ফরহাদ (৪০), বসুরহাট পৌরসভা এলাকার আদনান (২৪), মারুফ (২৫)।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম দেশ রূপান্তরকে জানান, গুলিবিদ্ধ আহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির ও কামাল উদ্দিনের বুকে, গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের দুজনকেই কিছুক্ষণের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টার দিকে চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজার এলাকায় দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি মিছিল বাজারের দলীয় কার্যালয়ে দিকে যায়। হঠাৎ করে ওই মিছিলে আবদুল কাদের মির্জার সমর্থক জামাল উদ্দিন লিটনসহ কিছু লোক বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ সংঘর্ষ।
সংঘর্ষের পর ফেইসবুক লাইভে এসে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করেছেন, চাপরাশিরহাটে তার লোকজনের ওপর সাংসদ একরাম চৌধুরী ও সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন। হামলায় তার পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল টেলিফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিকেলে আমার বাড়িতে ওবায়দুল কাদেরসহ দলীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে আগামীকালের সংবাদ সম্মেলন বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা চলাকালে বাড়ির বিভিন্ন দিক থেকে অনবরত গুলি আসতে থাকে। এ সময় সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। হামলায় তার অন্তত ৫০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।