স্থানীয়দের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেও পরে ফের নতুন করে তালা ঝুলাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু হলের ফটক নতুন করে তালাবদ্ধ দেখা যায়।
এর আগে দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ফটকের তালা ভাঙা শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত এলে তবেই হল খোলা সম্ভব। আজ উপাচার্যের সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সভা রয়েছে।’
এর আগে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে তিন দফা দাবিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাব্যয় ও ক্ষতিপূরণ এবং গেরুয়া এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক নির্মাণের দাবি মেনে নেন।
তবে হল খোলার দাবি না মেনে তা সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান।
এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে বিক্ষোভ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ফটকের তালা ভাঙতে শুরু করেন। একে একে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সবক’টি হলে প্রবেশ করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন।
এর মধ্যে গেরুয়া এলাকায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী থাকেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে থাকা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। এখন হল খুলে দেওয়ার বিকল্প নেই বলেও জানান তারা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলা হবে না বলে জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন।
শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত ও দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মিছিল, জমায়েত, আবাসিক হলের তালা ভাঙা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত পরিপন্থী।
এতে আরও বলা হয়, সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।