কুমিল্লায় বোনের মৃত্যুর খবর শুনে ভাই হুমায়ুন কবির শিকদার (৬৫) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মুন্সির ছেলে হুমায়ুন কবিরের ঢাকার যাত্রাবাড়ি সারুলিয়া এলাকার নিজ বাসায় শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানায়, ভাওরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আব্বাসীর সঙ্গে একই গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সিরাজ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
গত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন এলাকায় আসতে পারেননি সিরাজ মিয়া।
শুক্রবার এক বিয়ের দাওয়াতে সপরিবারে ভাওরখোলা নিজ বাড়িতে আসেন।
খবর পেয়ে ফারুক আব্বাসীর লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই তার বড় ভাই আব্দুস সালামের স্ত্রী নাজমা বেগম মারা যান।
ময়নাতদন্তের পর শনিবার বিকেলে নাজমা বেগমের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর সন্ধ্যায় হুমায়ুন কবির তার ছেলে রাব্বির কাছ থেকে বোনের মৃত্যুর সংবাদটি পান।
সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার দিয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। একদিনের ব্যবধানে পরিবারের দুজনকে হারিয়ে ভাওরখোলা গ্রামে ও স্বজনদের মধ্যে এখন শোকের মাতম চলছে।
এদিকে নাজমা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় শনিবার ভোরে ফারুক আব্বাসীর বাড়ি থেকে পাইপগান, রামদা, বল্লম, চাইনিজ কুড়ালসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শনিবার রাতে মেঘনা থানায় হত্যা মামলা ও অস্ত্র উদ্ধারে পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে।
মেঘনা থানার ওসি আব্দুল মজিদ বলেন, হত্যার ঘটনায় নিহত নাজমা বেগমের দেবর সিরাজ মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা এবং পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে।
দু’টি মামলায় চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দেলোয়ার হোসেন নামে একজনকে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার রায়পাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।