সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন রুমের ভেতর থেকে রিভার্সেল হ্যান্ডেল চুরি হয়ে গেছে। নিরাপত্তা প্রহরী থাকার পরও রবিবার রাতে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশনে ট্রেনটি অবস্থানকালে ইঞ্জিন রুম থেকে এ চুরির ঘটনা ঘটে। এ কারণে সোমবার সকাল ৬টায় ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সাড়ে ৯টার দিকে তা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
টানা তিন দিন ছুটির পর যেসব যাত্রী সিরাজগঞ্জ থেকে অফিস করতে ট্রেনে উঠেছিলেন তারা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে চরম হতাশা প্রকাশ করেন।
ঘটনা তদন্তে পাকশী রেলওয়ে বিভাগের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ড্রাইভার রবিউল ইসলাম জানান, ‘ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর ট্রেনের জানালা দরজা-বন্ধ রেখে তিনিসহ স্টাফরা যে যার মতো বাসায় চলে যান। সোমবার সকালে ট্রেনের ইঞ্জিন চালু করতে গিয়ে দেখা যায় রিভার্সেল হ্যান্ডেল নেই। পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঈশ্বরদী থেকে বিকল্প রিভার্সেল হ্যান্ডেল পাঠানোর জন্য বলা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিকল্প রিভার্সেল হ্যান্ডেলটি সিরাজগঞ্জ পৌঁছালে ইঞ্জিনটি পুরোপুরি সচল করে জামতৈল স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়’।
তিনি আরো জানান, ‘রিভার্সেল হ্যান্ডেলের কারণে ইঞ্জিন চালুসহ ঘোরানো সম্ভব না। তবে সকাল ৯টার দিকে বিকল্প পদ্ধতিতে ইঞ্জিনটি চালু করে বাজার স্টেশন থেকে জামতৈল স্টেশনে নেয়া হয়’।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক হাজী আবজাল হোসেন জানান, ‘রিভার্সেল হ্যান্ডেল কীভাবে চুরি হলো তা বোধগম্য নয়। নিয়ম অনুযায়ী হ্যান্ডেলটি ইঞ্জিন বন্ধ করার পর ড্রাইভারের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি হ্যান্ডেলটি ইঞ্জিনের সঙ্গে রেখেই চলে যান। এ কারণে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে’।
তিনি জানান, চুরির বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে ট্রেনের যাত্রী আবু হোসেন ও ইমতিয়াজ হোসেন জানান, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে তাদের এ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী এবং চালক যদি সঠিক দায়িত্ব পালন করতেন তা হলে এ চুরির ঘটনা ঘটত না।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, চুরি যাওয়ার কোনো তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। আমাদের বলা হয়েছিল ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। পরে জেনেছি রিভার্সেল হ্যান্ডেল চুরি হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা জিডি করা হয়নি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।