২৭ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ হওয়া মেয়েটি কি বাংলাদেশে?

আজ থেকে ২৭ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে অপহরণের শিকার হওয়া ক্যাথরিন লুগো নামের একটি মেয়ে এখন বাংলাদেশে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। দেশ রূপান্তর জানতে পেরেছে মিসবাহ মোহাম্মদ কাজি নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগটি তদন্ত করছে এফবিআই।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলন্ড্রেন ওই মেয়ের সন্ধান করছে। পাশাপাশি চার্লি প্রজেক্ নামের আরেকটি সংস্থা থেকে ক্যাথরিনের খোঁজ করা হচ্ছে। এই দুটি সংস্থার সঙ্গে কথা বলে ক্যাথরিনের অদৃশ্য হওয়ার গল্প উদঘাটন করেছেন এই প্রতিবেদক।

১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে ক্যাথরিন হারিয়ে যাওয়ার সময় বয়স ছিল ৪ বছর। তার সন্ধান পেতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

যে মিসবাহ কাজির বিরুদ্ধে ক্যাথরিনকে অপহরণের অভিযোগ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত। অন্য এক গর্ভবতী নারীকে হত্যাচেষ্টার দায়ে বর্তমানে তিনি যাবজ্জীবন সাজা খাটছেন।

ক্যাথরিন যেভাবে অদৃশ্য হয়: চার্লি প্রজেক্টের তথ্য বলছে, ১৯৯৪ সালের ৮ জানুয়ারি ক্যাথরিনের মা ফ্রান্সিস মোয়া মিসবাহর কাছে মেয়েকে রেখে কাজে যান।

মিসবাহর সঙ্গে মোয়ার সম্পর্ক ছিল। ক্যাথরিন মিসবাহর আসল বাবা নন।

মোয়া সেদিন বিকাল সাড়ে তিনটায় বাড়ি ফিরে মেয়েকে পাননি। তখন কাজি তাকে বলেন, ‘চার বছরের ক্যাথরিনকে তিনি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন!’

মোয়া ওই সময় আটমাসের গর্ভবতী ছিলেন। অনাগত সেই সন্তানের বাবা ছিলেন মিসবাহ। কিন্তু তিনি মিসবাহর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করতে চাইছিলেন।

মিসবাহ তখন মোয়াকে বলেন, ‘গর্ভের সন্তানের পূর্ণ হেফাজত না পেলে ক্যাথরিনকে আর যুক্তরাষ্ট্রে আনার ব্যবস্থা করবেন না।’

এফবিআইকে উদ্ধৃত করে চার্লি প্রজেক্ট বলছে, মোয়া এর আগে দুইবার গর্ভপাত করেন। মিসবাহ তারই প্রতিশোধ নিতে ক্যাথরিনকে অপহরণ করে থাকতে পারেন।

মোয়া পুলিশকে খবর দেন। তারা এসে উডস এজ এলাকার বাড়িতে তল্লাশি চালান। পামবিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইটগুলোতেও খোঁজ নেয়া হয়। আটক করা হয় মিসবাহকে।

রিভেরা বিচের পুলিশ কর্মকর্তা রিক সেসা ক্যাথরিনের মামলাটি তদন্ত করেন। এখন তিনি অবসরে। সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে নানা সময়ে তিনি বলেছেন, ‘মিসাবহ আমাদের কিছু জানাতে চায়নি। নানাভাবে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কোনো কথা না বলে মাথা নিচু করে থাকতেন।’

এরপর এফবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়। তৎকালীন গোয়েন্দা প্যাট গালিগান স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি ক্যাথরিনের দুটি ছবি তার সামনে রেখে বলেছিলাম, এ কোথায় বলে দাও। তখনই সে কাঁদতে শুরু করে।’

এই ঘটনায় পুলিশ মিসবাহর বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি জানান, ক্যাথরিনকে সর্বশেষ মিসবাহর সঙ্গেই দেখেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালে শুনানিতে নিজের বয়ান পাল্টে ফেলেন। যার কারণে মিসবাহকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেননি আদালত। মিসবাহ তখন খালাস পেয়ে ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া চলে যান।

ক্যালিফোর্নিয়া গিয়ে আরেক জনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন। তার গর্ভেও মিসবাহর সন্তান আসে। ওই নারীর জীবনবীমার অর্থ লোপাট করতে খুনের পরিকল্পনা করে ধরা পড়ে যান। এরপর এফবিআই থেকে আবার ক্যাথরিনের মামলাটি সচল করা হয়।

রিভেরা বিচ পুলিশ এখন নতুন গোয়েন্দাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কারাগারে গিয়ে তারা মিসবাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা ব্রুক ওয়েইনার বলেছেন, ‘মিসাবহ দাবি করছে ক্যাথরিন বেঁচে আছে। কিন্তু কোথায় আছে তা বলছে না। আমরা আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই।’

যুক্তরাষ্ট্রের ইনমেটএইড ওয়েবসাইটে গিয়ে  মিসবাহর একটি ছবি পাওয়া গেছে। সেখান থেকে জানা গেছে, ফরেনসিক ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট থেকে ক্যাথরিনের এই বয়সের সম্ভাব্য ছবি তৈরি করা হয়েছে। সেই ছবি বাংলাদেশে পাঠিয়ে কয়েকটি গ্রামে খোঁজ করা হয়। কিন্তু কোনো  সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কর্মকর্তারা বলছেন, বায়োলজিক্যাল ছবি এবং বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ক্যাথরিনের ৩১ বছর বয়সের অবয়ব তৈরি করা হয়েছে। এই ছবির সাহায্যে তারা আরও তদন্ত করতে চান।