স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বিএনপিকে আইজিপির ‘আশ্বাস’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনে ৩০ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ মহাসমাবেশসহ ১৯ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। বুধবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপি জানায়, বুধবার বিকেলে একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পালনে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। জবাবে বিএনপি নেতাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন আইজিপি।

আইজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, ‘বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের কর্মসূচি সফল করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আশাদের আশ্বাস দিয়েছেন আইজিপি। তবে কর্মসূচি যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন তিনি।’

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় পুলিশ সদর দপ্তরে বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৫টায়।  উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন প্রচার কমিটির সদস্যসচিব ও দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা কমিটির সদস্যসচিব ও দলের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) জয়নুল আবদিন।

গুলশানের সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা জনগণের প্রস্ফুটিত স্বাধীনতা, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা, দেশের জনগণের জন্য জনগণের স্বার্থে এ স্বাধীনতা। তাই আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সবাই উদ্‌যাপন করতে চাই। এসব অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠুভাবে যাতে করতে পারি সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হবে।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনে বিএনপি সারা বছরের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। মার্চ মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি মাস শেষ হওয়ার আগে পরবর্তী মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মার্চ মাসের ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ হচ্ছে, ১ মার্চ সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচির উদ্বোধন, ২ মার্চ ‘ছাত্র সমাজ কর্তৃক স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন’ শীর্ষক আলোচনা সভা, ৩ মার্চ ছাত্র ‘সমাজ কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ’ শীর্ষক আলোচনা সভা, ৭ মার্চ আলোচনা সভা, ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস পালন, ৯ মার্চ সেমিনার, ১০ মার্চ রচনা প্রতিযোগিতা, ১৩ মার্চ বছরব্যাপী রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন, ১৫ মার্চ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ২০ মার্চ আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ক সেমিনার, ২২ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, জেড ফোর্স এবং বীর উত্তম জিয়াউর রহমান শীর্ষক সেমিনার, ২৩ মার্চ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মেলা, ২৪ মার্চ নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে স্বৈরাচারী এরশাদের জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল শীর্ষক সেমিনার, ২৫ মার্চ কালো রাত্রি শীর্ষক আলোচনা সভা, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শেরে বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, রক্তদান কর্মসূচি, সারা দেশে র‌্যালি, ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গমন ও বগুড়ায় বাগবাড়ি গমন এবং আলোচনা সভা, ২৮ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা, ৩০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুবর্ণজয়ন্তী মহাসমাবেশ ও ৩১ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীর উদ্বোধন।

এক প্রশ্নের জবাবে দলের কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির দাবিও পুনরুল্লেখ করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক আবুল মকসুদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন খন্দকার মোশাররফ।

এতে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যসচিব আবদুস সালাম।

আরো উপস্থিত ছিলেন, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু ও চেয়ারপারসনের প্রেস  উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।