জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অবৈধভাবে আবাসিক হলে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা হল ছেড়েছেন। আর এ জন্য ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এক শিক্ষক। মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেন। বুধবার হলগুলো সিলগালা করে দেয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করায় ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ দিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ।
মঙ্গলবার নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে স্ট্যাটাসে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‘শহীদ রফিক-জব্বার হল সিলগালা করা হলো। আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে শহীদ রফিক-জব্বার হলের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন মনের নেতাকর্মীদের। আমি অশেষ ধন্যবাদ জানাই আমার প্রিয় সহকর্মীগণকে তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য। দৃঢ় প্রত্যাশা রাখছি আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দের সঙ্গে আবার দেখা হবে ১৭ মে, ২০২১। সকলে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, নিরাপদে থাকুন, সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক, শেখ হাসিনার জয় হোক।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সোহেল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি প্রথমে আমার শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দিয়েছি তারপর ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ দিয়েছি। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ না। তাই কোনো বিষয়ে আমরা বলপ্রয়োগ করতে পারি না, অনুরোধই করতে পারি। আমি অনুরোধ করেছি, তারা অনুরোধ রেখেছে, সহযোগিতা করেছে। সে জন্যই আমি ধন্যবাদ দিয়েছি।’
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি দেশ রূপান্তরকে
বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে এমন নয় হলে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন গিয়ে বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে। পরে হলগুলোতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষরা হলে শিক্ষার্থীদের জরুরি জিনিসপত্র নেয়ার জন্য প্রবেশের ব্যবস্থা করবেন।’
শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমাদের ওপর স্থানীয় গেরুয়াবাসীর হামলার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমরা হলে অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু এরপর থেকে হল প্রশাসন বারবার আমাদের হল ত্যাগের অনুরোধ করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমরা দ্বিধায় পড়ে যাই।
তবে গেরুয়াবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের নেপথ্যে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।