স্নাতক শেষেও মেলে না শিক্ষাবৃত্তি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে মেধা এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে শিক্ষাবৃত্তি চালু রয়েছে। তবে স্নাতক শেষেও প্রথম বর্ষের শিক্ষাবৃত্তি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪টি বিভাগের মধ্যে ২৫টিতে শিক্ষাবৃত্তি চালু রয়েছে। প্রত্যেক বিভাগে চারটি বর্ষের মেধাতালিকার প্রথম ৬ শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য মনোনীত হন। তাদের মাসে ২০০ টাকা করে বছরে ২৪০০ টাকা দেওয়া হয়। সাধারণ ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীরা মাসে ১৫০ টাকা করে বছরে পান ১৮০০ টাকা। কিন্তু বেশিরভাগ বিভাগে কোনো বর্ষের শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা দীর্ঘদিন দেওয়া হচ্ছে না। টাকার পরিমাণ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে গত বছরের ১৫ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃত্তির টাকা নিতে ৭ এপ্রিলের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে বলা হয়। ২০১৬-১৭, ২০১৫-১৬ ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এ বৃত্তি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে ১৭ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে এ প্রক্রিয়া চাপা পড়ে।

পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র হেমায়েত কবির বলেন, ‘বৃত্তির টাকা খুবই কম, তারপরও প্রত্যেক বর্ষ শেষে এটা দেওয়া হয় না। শিক্ষাজীবন শেষে যৎসামান্য টাকা নিতে কেউই আগ্রহ দেখান না। এরই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নয়ছয় করেন।’ লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা সামনে। এখনো প্রথম বর্ষের শিক্ষাবৃত্তি পাইনি। ঠিকঠাক টাকাগুলো দিলে উপকার হতো।’

অ্যাকাডেমিক কার্যালয়ের (বৃত্তি) সহকারী রেজিস্ট্রার ইনামুল কবির বলেন, ‘সব বিভাগে একসঙ্গে ফলাফল হয় না। এজন্য বৃত্তির টাকা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক ফাইল জমে গেছে। দ্রুত বৃত্তির টাকা ছাড়ে আমরা কাজ করছি।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাগাদা দিয়েছি, তারা কাজ করছে। জমে থাকা বৃত্তির টাকা চালুর পর অর্থসংস্থান সাপেক্ষে পরিমাণ বাড়ানো হবে।’