ব্যাগ ধরে টান ছিনতাইকারীর

চলন্ত ট্রেন থেকে ছিটকে পড়া নারী হাসপাতালে

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে আহত হওয়া নারী সাবিনা ইয়াসমিন (৩৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি রয়েছেন। তবে জ্ঞান ফিরলেও তিনি এখনো কথা বলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালে তার সঙ্গে থাকা ছোট বোন তাসলিমা আক্তার।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাসলিমা জানান, গত রাতে ফেইসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। এরপর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজ ভোরে হাসপাতালে এসে বোনকে দেখতে পাই। তার মাথায় সেলাই করা হয়েছে। এছাড়া সমস্ত শরীরে ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। সাবিনার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নর নারায়ণপুর গ্রামে। এক ছেলে ও দুই মেয়ের জননী তিনি। ছয় বছর আগে তার স্বামী মিলন নস্কর স্ট্রোক করে মারা যান। তারপর থেকে ইয়াসমিন টঙ্গীর চেরাগআলীতে থাকেন। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন তিনি।

তাসলিাম আরও জানান, বিধবা ভাতার কার্ড করার জন্য গতকাল বুধবার ভোরে ৮ বছরের ছোট ছেলে মেরাজকে নিয়ে ট্রেনে করে গ্রামের বাড়িতে যান সাবিনা। গতকাল সন্ধ্যায় আবার ছেলেকে নিয়ে ট্রেনে করে টঙ্গীতে ফিরছিলেন তিনি। পুলিশের কাছ থেকে শুনেছি ভৈরবে চলন্ত ট্রেনে এক ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দিলে চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে পড়ে যান তিনি। তবে তার কোলে থাকা ছেলে মেরাজ ট্রেনের ভেতরেই পড়ে। এজন্য মেরাজ আঘাত পায়নি। আর আহত অবস্থায় সাবিনাকে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখন তিনি ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন। আর মেরাজ গ্রামে তার নানির কাছে আছে।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ওই নারীকে বুধবার রাতে নিউরোসার্জারির ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাত রয়েছে। তবে তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।